বাড়ির আবর্জনা আলাদা করে রাখার জন্য সর্বোচ্চ ১২টি বিন বা বর্জ্য রাখার পাত্র ব্যবহারের নির্দেশনা ঘিরে যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের ডেনবিগশায়ার কাউন্টি কাউন্সিলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, এতগুলো বিন ও বর্জ্যের ব্যাগ রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা তাদের বাড়িতে নেই। পাশাপাশি বর্জ্য সংগ্রহের পর রাস্তায় আবর্জনা ছড়িয়ে থাকার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এলবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেনবিগশায়ারের অধিকাংশ বাসিন্দাকে আগে থেকেই বর্জ্য আলাদা করার জন্য সর্বোচ্চ ১১টি পাত্র দেওয়া হয়েছিল। এবার প্লাস্টিকের প্যাকেজিং বর্জ্য আলাদা করে রাখার জন্য আরও একটি পাত্র ব্যবহারের পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় অন্তত ৪ হাজার ৫০০টি পরিবারের কাছে ১২তম বিন ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাটি তিন মাস ধরে চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা লিন্ডা মুরাকা এ ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, বাড়ির বিন বাইরে রাখার কাজ এখন যেন পুরো সময়ের পেশায় পরিণত হয়েছে। তার অভিযোগ, এতগুলো বিন ও বর্জ্যের ব্যাগ রাখার জন্য বাড়িতে পর্যাপ্ত জায়গা নেই।
তিনি দ্য টাইমসকে বলেন, বর্জ্য সংগ্রহকারীরা চলে যাওয়ার পর রাস্তার অবস্থা দেখার মতো থাকে। অনেক সময় আবর্জনা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক বাসিন্দা ব্যবস্থাটিকে ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে জানান, আগে প্রতি দুই সপ্তাহে দুটি বিন সংগ্রহ করা হতো। এখন প্রধান বিনগুলো প্রতি সপ্তাহে সংগ্রহ করা হচ্ছে। তার দাবি, রাইল এলাকায় ইঁদুরের উপদ্রবও ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
ওই বাসিন্দা আরও বলেন, তিনি আর কোনো বিন চান না। তার মতে, বর্জ্য আলাদা করার বর্তমান ব্যবস্থা বাসিন্দাদের জন্য বাড়তি ঝামেলা তৈরি করছে।
কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে বর্জ্য কোথায় ফেলতে হবে, তা জানার জন্য বাসিন্দাদের ২০ পৃষ্ঠার একটি নির্দেশিকা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যের জন্য আলাদা পাত্র ও সংগ্রহব্যবস্থার কথা উল্লেখ রয়েছে। কাচের বোতল ও জার রাখার জন্য রয়েছে ‘ট্রলিবক্স’ নামে একটি নির্দিষ্ট অংশ। এ ছাড়া কাপড়জাত বর্জ্য রাখার জন্য সাদা ব্যাগও দেওয়া হয়।
তবে কাউন্সিল জানিয়েছে, সব ধরনের বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা প্রতিটি পরিবারের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। ডেনবিগশায়ার কাউন্টি কাউন্সিল দ্য টাইমসকে বলেছে, কাপড়জাত বর্জ্য, শোষণক্ষম স্বাস্থ্যবিধিসংক্রান্ত পণ্য এবং বাগানের বর্জ্য সংগ্রহের মতো কিছু পরিষেবা ঐচ্ছিক। তাই প্রতিটি পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় পাত্রের হিসাব করার সময় এগুলো সাধারণত অন্তর্ভুক্ত করা হয় না।
কাউন্সিল আরও জানিয়েছে, নরম প্লাস্টিকের বর্জ্য সংগ্রহের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম বর্তমানে কাউন্টির সীমিতসংখ্যক পরিবারের মধ্যে চালু রয়েছে। এটি ডিসেম্বরের শুরুর দিকে শেষ হওয়ার কথা।
ওয়েলস সরকারের বর্জ্য পুনর্ব্যবহারসংক্রান্ত আসন্ন পরিবর্তনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই পরীক্ষা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে কাউন্সিল। নতুন নিয়মের আওতায় ওয়েলসের সব স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে।
এদিকে, বাসিন্দাদের অভিযোগ ও অসন্তোষের বিষয়ে মন্তব্য জানতে ডেনবিগশায়ার কাউন্টি কাউন্সিলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এলবিসি। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সংবাদমাধ্যমটির কাছে কাউন্সিলের আলাদা কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্রঃ এলবিসি, দ্য টাইমস ও দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
এমকে

