TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে মুখোশধারীদের দখলে ডোভার বন্দরঃ অবরোধে থমকে গেল ফেরি চলাচল

যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ডোভারে শত শত মুখোশধারী বিক্ষোভকারীর আকস্মিক অবরোধে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। কালো পোশাক ও মুখোশ পরা বিক্ষোভকারীরা বন্দরে প্রবেশ ও বের হওয়ার একাধিক পথ আটকে দেওয়ায় ফেরি যাত্রী, পর্যটক, পণ্যবাহী ট্রাক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।

বিক্ষোভের কারণে ডোভার বন্দরের সঙ্গে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ এ২০ সড়ক দুই দিকেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ন্যাশনাল হাইওয়েজ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা তিনটি পৃথক স্থানে অবস্থান নিয়ে বন্দরে প্রবেশকারী যান চলাচল কার্যত থামিয়ে দিয়েছে। এর ফলে প্রায় চার মাইল দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে এবং যানবাহনগুলোকে প্রায় ৪৫ মিনিট পর্যন্ত অতিরিক্ত বিলম্বের মুখে পড়তে হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের হিসাবে, সকাল সাড়ে ৬টার পর থেকেই বিক্ষোভকারীদের বড় একটি দল এলাকায় জড়ো হতে শুরু করে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, সেখানে প্রায় ৩০০ জন পুরুষকে দেখা গেছে। তাদের অধিকাংশই কালো পোশাক ও মুখোশ পরা ছিল এবং তারা বন্দরের বিভিন্ন প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ অবরোধ করে রাখে।

কেন্ট পুলিশ জানিয়েছে, তারা ডোভার বন্দরে চলমান বিক্ষোভ সম্পর্কে অবগত এবং ঘটনাস্থলে কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। বন্দর কর্তৃপক্ষও ঘটনাটিকে একটি ‘জনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিক্ষোভকারীরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দাবির কথা স্পষ্ট না করলেও স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা এটিকে ‘ছোট নৌকায় অভিবাসন বন্ধ করো’ ধরনের বিক্ষোভ বলে মনে করছেন। তবে বিক্ষোভটি কারা আয়োজন করেছে এবং সুনির্দিষ্টভাবে কী দাবিতে করা হয়েছে, তা প্রাথমিক পর্যায়ে নিশ্চিত করা হয়নি। পরবর্তী প্রতিবেদনে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশের সঙ্গে ‘প্যাট্রিয়ট প্ল্যাটফর্ম’ নামের একটি কট্টর ডানপন্থী সংগঠনের যোগসূত্রের কথাও উঠে এসেছে।

বিক্ষোভের কারণে ডোভার ওয়াটারফ্রন্টের সাপ্তাহিক পাঁচ কিলোমিটার দৌড়ের কর্মসূচিও বাতিল করা হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এলাকায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা থাকায় দৌড়ের পথ নিরাপদ বা ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় ছিল না।

ডোভার বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতির কারণে বন্দর ও আশপাশের শহরের সব প্রবেশ ও বের হওয়ার পথই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা কেন্ট পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের ওপর এর প্রভাব বিবেচনায় দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আশা করছে।

ফেরি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ না হলেও বন্দরে পৌঁছাতে না পারার কারণে যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পি অ্যান্ড ও ফেরিজ জানিয়েছে, তাদের নির্ধারিত ফেরিগুলো চালু রয়েছে। কোনো যাত্রী বিক্ষোভজনিত যানজটের কারণে নির্ধারিত ফেরি ধরতে না পারলে পরবর্তী উপলব্ধ ফেরিতে তাকে যাত্রার সুযোগ দেওয়া হবে।

ডিএফডিএসও জানিয়েছে, তারা ডোভারে চলমান যানজট সম্পর্কে অবগত এবং যেসব যাত্রী নির্ধারিত যাত্রা ধরতে সমস্যায় পড়বেন, তাদের পরবর্তী যাত্রায় নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। ফ্রান্সের কালাইস বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপাতত জাহাজে যাত্রী ও যানবাহন তোলা হলেও ডোভার পরিস্থিতির কারণে যাত্রায় বিলম্ব হচ্ছে।

ডোভার ও ডিলের লেবার এমপি মাইক ট্যাপ বিক্ষোভকারীদের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ডোভারে এসে মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো নিয়ে তিনি বিরক্ত। তার দাবি, ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে আসার ঘটনা আগের তুলনায় ৪০ শতাংশ কমেছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে।

ডোভার দীর্ঘদিন ধরেই ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ছোট নৌকায় অভিবাসীদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশের বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার অন্যতম কেন্দ্র। এ কারণে বন্দর এলাকায় অতীতেও অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। এবার মুখোশধারীদের সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বন্দর অবরোধের ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

বিক্ষোভের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পণ্য পরিবহনকারী চালকেরা। ফ্রান্সগামী ফেরি ধরতে যাওয়া পর্যটক এবং ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে পণ্য নিয়ে যাওয়া ট্রাকগুলোকে দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকতে হয়েছে। একজন গাড়িচালক জানিয়েছেন, কালো পোশাক পরা কয়েকজন বিক্ষোভকারী তার গাড়ি ঘিরে ফেলায় তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ভয় পেয়ে যান।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বিক্ষোভ কতক্ষণ চলবে এবং বন্দরের স্বাভাবিক যান চলাচল কখন পুরোপুরি ফিরবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত নয়। তবে ফেরি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যাত্রীদের আশ্বস্ত করেছে যে নির্ধারিত যাত্রা মিস হলেও পরবর্তী ফেরিতে তাদের নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

সূত্রঃ ডেইলি মিরর, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন নীতিতে সময়সীমা বৃদ্ধিঃ শাবানা মাহমুদের এলাকায় কেয়ার কর্মীদের লিফলেটিং কর্মসূচি

যুক্তরাজ্যের প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের নিতে চায় কসোভো, নিরাপত্তা সহায়তা চায় বিনিময়ে

যুক্তরাজ্যে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রতি আস্থা তলানিতে, চাপে স্টারমার প্রশাসন