দেশজুড়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় ধরনের অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে প্রতি বছর ৭.৪ বিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি অর্থ সরাসরি ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোর কাছে পৌঁছানো হবে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রথমবারের মতো সরকারি প্রতিটি দপ্তর আলাদাভাবে নির্ধারণ করেছে তারা কত পরিমাণ অর্থ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা খাতে ব্যয় করবে। এর মাধ্যমে “ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিকল্পনা” বাস্তবায়নে গতি আসবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি প্রতিবছর অগ্রগতির প্রতিবেদন প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে দপ্তরগুলো জবাবদিহিতার মধ্যে থাকে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতে তাদের ব্যয় আরও ২.৫ বিলিয়ন পাউন্ড বাড়িয়ে ২০২৮ সালের মধ্যে ৭.৫ বিলিয়ন পাউন্ডে উন্নীত করবে। যদিও এই লক্ষ্য সরাসরি ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত, সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে অতিরিক্ত বিপুল অর্থ ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোর কাছে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরকারের মতে, একটি শক্তিশালী বেসরকারি খাতই কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি। এ কারণে ক্ষুদ্র ও বড়—উভয় ধরনের ব্যবসাকে সমানভাবে সহায়তা দিয়ে তাদের বিকাশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এর আগে ঘোষিত পরিকল্পনায় দেরিতে অর্থ পরিশোধের সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ আইন এবং অর্থায়নে প্রবেশাধিকার সহজ করতে ৪ বিলিয়ন পাউন্ডের সহায়তা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ক্যাবিনেট দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ক্রিস ওয়ার্ড বলেন, এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিশ্চিত করবে যে আরও বেশি সরকারি চুক্তি ক্ষুদ্র ব্যবসার হাতে যাবে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে অর্থের প্রবাহ বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।
ক্ষুদ্র ব্যবসা বিষয়ক মন্ত্রী ব্লেয়ার ম্যাকডুগল বলেন, নতুন এই লক্ষ্য হাজারো ছোট প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক সরকারি কাজ পাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে এবং তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা করবে। তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতে সরকারি ক্রয় ব্যয় বাড়ানো এখন জাতীয় অগ্রাধিকার।
নীতিনির্ধারণ বিশ্লেষক টিনা ম্যাকেঞ্জি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার সরাসরি কত অর্থ ক্ষুদ্র ব্যবসায় ব্যয় করছে তা পরিষ্কারভাবে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২২ সালের পর থেকে এই খাতে ব্যয় কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন লক্ষ্যগুলো বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, ব্যবসা খাতের প্রতিনিধিরা বলছেন, সরকারি চুক্তিতে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়লে ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানগুলো আরও উদ্ভাবনী ভূমিকা রাখতে পারবে। এতে কম খরচে উন্নত সেবা পাওয়া যাবে এবং অপচয়ও কমবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন দপ্তর ৪০ শতাংশ, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও ক্রীড়া দপ্তর ৩৩ শতাংশ এবং ক্যাবিনেট দপ্তর ৩০ শতাংশ ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। প্রায় অর্ধেক দপ্তরই ২০ শতাংশের বেশি ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যার অর্থ প্রতি পাঁচ পাউন্ডে অন্তত এক পাউন্ড সরাসরি ক্ষুদ্র ব্যবসার কাছে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে স্থানীয় ব্যবসাগুলো আরও বেশি সুযোগ পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সূত্রঃ ইউকে ডট গভ
এম.কে

