TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসে সময়সীমা দ্বিগুণের প্রস্তাবঃ ক্ষমতাসীন দলে বাড়ছে বিরোধিতা

যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার নিয়ম কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, যার ফলে অপেক্ষার সময় ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাব ঘিরে ক্ষমতাসীন লেবার দলের ভেতরেই তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ-এর প্রস্তাবিত এই পরিবর্তন নিয়ে উদ্বিগ্ন একাধিক মন্ত্রী ও দলের পেছনের সারির সংসদ সদস্যরা নীরবে কাজ করছেন, যাতে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া যায়। বিশেষ করে যারা ইতোমধ্যে দেশে অবস্থান করছেন, তাদের ওপর নতুন নিয়ম প্রযোজ্য না করার দাবিই সবচেয়ে জোরালোভাবে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বর্তমানে এ বিষয়ে পরামর্শ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে জনসেবা খাতে কর্মরত অভিবাসী এবং যারা স্থায়ী বসবাসের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন, তাদের জন্য ব্যতিক্রম রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে দলীয় অসন্তোষ কমাতে আরও বড় পরিসরে ছাড় দেওয়ার জন্য তার ওপর চাপ বাড়ছে।

দলের ভেতরে অনেকেই মনে করছেন, নতুন নিয়ম যদি আগের সময় থেকে কার্যকর করা হয়, তাহলে তা হাজারো অভিবাসীর জন্য অন্যায্য হয়ে দাঁড়াবে। সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনারসহ একাধিক নেতা ইতোমধ্যে এই অবস্থানের পক্ষে মত দিয়েছেন।

একাধিক সংসদ সদস্য অভিযোগ করেছেন, তাদের উদ্বেগ যথাযথভাবে শোনা হচ্ছে না। কেউ কেউ জানিয়েছেন, চিঠি পাঠানোর পরও কোনো উত্তর পাননি, বরং চাপ প্রয়োগের অভিজ্ঞতা হয়েছে। এতে করে দলের ভেতরে ক্ষোভ আরও বাড়ছে।

এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে প্রায় ১০০ জন লেবার সংসদ সদস্য একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। তাদের বক্তব্য, বহু বছর ধরে আইনগতভাবে বসবাসকারী মানুষদের হঠাৎ করে কঠোর নিয়মের আওতায় আনা ন্যায়সংগত নয় এবং এতে জনআস্থা কমে যেতে পারে।

এদিকে বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রভাব ফেলছে। লন্ডনের বিভিন্ন এলাকায় গ্রিন পার্টি এই ইস্যুকে তাদের প্রচারণায় ব্যবহার করছে, যেখানে লেবার দলকে অভিবাসীবিরোধী হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। সাম্প্রতিক গরটন ও ডেন্টন উপনির্বাচনে গ্রিন পার্টির বিজয় এই চাপ আরও বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকার একদিকে ডানপন্থী রাজনীতির উত্থানের প্রেক্ষাপটে কঠোর অবস্থান নিতে চাইছে, অন্যদিকে এতে বামপন্থী সমর্থন হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

সংসদ সদস্য এমিলি থর্নবেরি-সহ অনেকেই মনে করেন, শুধু সময়সীমা বাড়ানো নয়, পুরো নীতিমালার পরিবর্তন প্রয়োজন। একইভাবে সারাহ ওউন এই প্রস্তাবের কিছু দিকের কড়া সমালোচনা করেছেন, বিশেষ করে পরিবার ও শিশুদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও নিয়ন্ত্রিত ও কার্যকর করতে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অভিবাসনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে তারা মনে করছে।

সব মিলিয়ে, প্রস্তাবিত এই অভিবাসন নীতি এখন শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

হিথ্রো থেকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ফ্লাইট বাতিল

যুক্তরাজ্যে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রতি আস্থা তলানিতে, চাপে স্টারমার প্রশাসন

যুক্তরাজ্যে রেকর্ড সংখ্যক কোভিড সনাক্ত, মৃত্যু ৪১

অনলাইন ডেস্ক