লেবার সরকারের অভিবাসন কমানোর পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতের শীর্ষ সংস্থা এনএইচএস এম্পলয়ারস সতর্ক করেছে, বিদেশি ডাক্তার, নার্স, হাসপাতাল কর্মী ও কেয়ার ওয়ার্কারদের জন্য প্রস্তাবিত ১০ বছরের সেটেলমেন্ট শর্ত কার্যকর হলে এনএইচএস গুরুতর জনবল সংকটে পড়তে পারে এবং অপেক্ষমান তালিকা কমানোর সরকারি প্রতিশ্রুতি ভেস্তে যেতে পারে।
বর্তমানে বিদেশি কর্মীরা পাঁচ বছর পর অনির্দিষ্টকালের জন্য বসবাসের অনুমতি (ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন) আবেদন করতে পারেন। কিন্তু নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী এই সময়সীমা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হবে। এ প্রেক্ষিতে এনএইচএস এম্পলয়ারস এমপিদের কাছে দাবি জানিয়েছে, এনএইচএস বা কেয়ার সংস্থার স্পনসরকৃত কর্মীদের জন্য ১০ বছরের কম সময়ের একটি “দ্রুতগতির সেটেলমেন্ট রুট” চালু করতে হবে।
সংস্থাটি বলেছে, এই সুবিধা কেবল ক্লিনিক্যাল পদেই নয়, বরং ডিজিটাল, ফাইন্যান্স, এস্টেটস ও প্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত। তাদের মতে, পাঁচ বছর থেকে ১০ বছরে সময়সীমা বাড়ালে স্পনসরশিপের মেয়াদ দ্বিগুণ হবে এবং ইমিগ্রেশন স্কিলস চার্জ (৩২ শতাংশ বৃদ্ধি), ভিসা ফি ও সার্টিফিকেট অব স্পনসরশিপের অতিরিক্ত খরচ মিলিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়োগের ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাবে।
স্বাস্থ্যখাতের আশঙ্কা, সেটেলমেন্টে বিলম্ব যুক্তরাজ্যকে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের কাছে কম আকর্ষণীয় করে তুলবে। ইতোমধ্যে জেনারেল মেডিকেল কাউন্সিলের নভেম্বর ২০২৫ সালের তথ্যে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিকভাবে শিক্ষাপ্রাপ্ত ডাক্তারদের যুক্তরাজ্য ত্যাগের সংখ্যা গত বছরে বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নীতিগত পরিবর্তন ও অভিবাসনবিষয়ক নেতিবাচক পরিবেশ এ প্রবণতার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
হোম সেক্রেটারি শাবানা মাহমুদ হোম অ্যাফেয়ার্স সিলেক্ট কমিটিতে বলেছেন, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অভিবাসনের যে ঢল নেমেছে তা “অভূতপূর্ব”। তার ভাষায়, ব্যাপকতা ও গতির দিক থেকে এটি ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে ফ্রি মুভমেন্ট ব্যবস্থার সময়কার পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনীয়। তিনি যুক্তি দেন, নিয়ম পরিবর্তন না করলে ভবিষ্যতে বিপুলসংখ্যক নতুন সেটেল্ড ব্যক্তি সামাজিক আবাসন ও কল্যাণ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হয়ে উঠবেন, যা রাষ্ট্রের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্চ ২০২৩ সমাপ্ত বছরে নিট অভিবাসন রেকর্ড ৯ লাখ ৪৪ হাজারে পৌঁছায়। ২০২২ সালে তা ছিল ৭ লাখ ৬৪ হাজার এবং জুন ২০২৪–এ কমে ৬ লাখ ৪৯ হাজারে নামে। সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত বছরে নিট অভিবাসন নেমে আসে ২ লাখ ৪ হাজারে, যা দেশত্যাগের হার বৃদ্ধির ফল। ২০২৩ সালে মোট ১৪ লাখ ৭০ হাজার মানুষ যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছিলেন।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০ বছর পর সেটেলমেন্ট আবেদনকারীদের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা যাবে না, এ-লেভেল মানের ইংরেজি দক্ষতা থাকতে হবে এবং কোনো ঋণ বকেয়া থাকা চলবে না। পাশাপাশি ব্রিটিশ নাগরিক না হলে কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক সুবিধা পাওয়ার ওপরও বিধিনিষেধ আরোপের কথা বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে স্বাস্থ্যখাতের ক্রমবর্ধমান জনবল নির্ভরতা—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে লেবার সরকার কঠিন নীতিগত ভারসাম্যের মুখে পড়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে কি না, তা এখন সরকারের জন্য বড় নীতিগত পরীক্ষা হয়ে
সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস
এম.কে

