7 C
London
March 25, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ৬ এপ্রিল থেকে শ্রম আইনে বড় পরিবর্তনঃ অসুস্থতার প্রথম দিন থেকেই ভাতা

আগামী ৬ এপ্রিল থেকে যুক্তরাজ্যে শ্রম আইনে বড় ধরনের পরিবর্তন কার্যকর হতে যাচ্ছে। নতুন কর্মসংস্থান অধিকার আইন অনুযায়ী, প্রায় দেড় কোটি কর্মী—যা মোট শ্রমশক্তির প্রায় অর্ধেক—এই সংস্কারের সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছে সরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এক প্রজন্মের মধ্যে কর্মীদের অধিকারে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি।

 

নতুন আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অসুস্থতা ভাতার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন। এখন থেকে অসুস্থতার প্রথম দিন থেকেই কর্মীরা ভাতা পাবেন, যেখানে আগে তিন দিন কোনো ভাতা দেওয়া হতো না। একই সঙ্গে বাতিল করা হয়েছে ন্যূনতম আয়ের শর্ত, ফলে নিম্ন আয়ের এবং খণ্ডকালীন কর্মীরাও এই সুবিধার আওতায় আসবেন।

এছাড়া ভাতার পরিমাণ নির্ধারণেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে নির্দিষ্ট একটি সাপ্তাহিক হারে ভাতা দেওয়া হলেও এখন তা কর্মীর আয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে, যা তুলনামূলকভাবে ন্যায্য ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আইনের আওতায় চাকরির প্রথম দিন থেকেই পিতৃত্বকালীন ছুটি ও অবৈতনিক অভিভাবক ছুটির অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সন্তানের মা বা প্রধান অভিভাবকের মৃত্যুর ক্ষেত্রে নতুন করে শোকজনিত পিতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

কর্মক্ষেত্রে অন্যায্য আচরণ রোধেও নেওয়া হয়েছে একাধিক পদক্ষেপ। যৌন হয়রানির অভিযোগকারীদের জন্য সুরক্ষা জোরদার করা হয়েছে এবং একসঙ্গে কর্মী ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাদের জন্য কঠোর নিয়ম আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া অনৈতিকভাবে কর্মী ছাঁটাই করে পুনরায় নিয়োগ দেওয়ার মতো বিতর্কিত প্রক্রিয়াও বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন আইনের অংশ হিসেবে ন্যায্য কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে একটি তদারকি সংস্থা গঠন করা হবে, যা কর্মীদের অধিকার রক্ষা এবং নিয়োগকর্তাদের নিয়ম মানতে সহায়তা করবে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে লিঙ্গভিত্তিক বেতন বৈষম্য কমাতে এবং কর্মীদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণে নেওয়া পদক্ষেপ প্রকাশ করতে উৎসাহ দেওয়া হবে।

শ্রমিক সংগঠন ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস বলেছে, এই আইন দেশের অর্থনীতি ও কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাদের মতে, এতে কর্মীদের স্বাস্থ্য, মানসিক স্বস্তি ও কাজের সন্তুষ্টি বাড়বে, বিরোধ কমবে এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

সংগঠনটির মহাসচিব পল নওয়াক বলেন, এই আইন কর্মীদের জন্য বাস্তব ও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনবে। তিনি দাবি করেন, শক্তিশালী শ্রম অধিকার কর্মী ও নিয়োগকর্তা—উভয়ের জন্যই উপকারী এবং এটি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অসুস্থতা ভাতার নতুন নিয়ম কর্মী ও নিয়োগকর্তাদের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি অন্যায্য বরখাস্তের বিরুদ্ধে সুরক্ষাও বড় পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অন্যায্য বরখাস্তের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। বর্তমানে এ ধরনের অভিযোগ করতে দুই বছর চাকরির অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হলেও, নতুন নিয়মে তা কমিয়ে ছয় মাস করা হবে। ফলে কর্মীরা দ্রুত আইনি সুরক্ষা পাবেন।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সংস্কারের মাধ্যমে অনিরাপদ চাকরি, অন্যায্য বেতন এবং খারাপ কর্মপরিবেশের অবসান ঘটবে। এতে মানুষের আয় বাড়বে এবং জীবনমান উন্নত হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিবর্তনগুলো বিশেষ করে নিম্ন আয়ের কর্মীদের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে আনবে এবং শ্রমবাজারে একটি আরও ন্যায্য ও সুরক্ষিত পরিবেশ তৈরি করবে।

সূত্রঃ ইকো ডট কম

এম.কে

আরো পড়ুন

ব্রিটিশ রাজমুকুটে ৪৪৪ রত্নসহ যা আছে

শিশুমৃত্যুর পর ইংল্যান্ডে খৎনা নিয়ে সতর্কতাঃ সিপিএস নির্দেশিকা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাজ্যে কাউন্সিল ট্যাক্সের বিল ৫% পর্যন্ত বাড়তে যাচ্ছে