12.9 C
London
February 21, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের প্রতি ১০ মা’র মধ্যে ৭ ‘অতিরিক্ত চাপগ্রস্ত’, অর্ধেক মানসিক সমস্যায় ভুগছেনঃ রিপোর্ট

যুক্তরাজ্যের প্রতি ১০ জন মায়ের মধ্যে ৭ জন নিজেদের অতিরিক্ত কাজের চাপের মধ্যে ভুগছেন এবং প্রায় অর্ধেক মা উদ্বেগ, বিষণ্নতা বা মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত—নতুন গবেষণায় এমন চিত্র উঠে এসেছে। ১২টি ইউরোপীয় দেশের মায়েদের ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে মায়েদের অধিকাংশ এখনও একাই ঘরের কাজ ও সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব বহন করছেন।

গবেষণা বলছে, যুক্তরাজ্যে ৭১% মা নিজেদের অতিরিক্ত চাপগ্রস্ত মনে করেন, যা ইউরোপীয় গড় ৬৭%-এর চেয়ে বেশি। ৪৭% মা বার্নআউটসহ মানসিক সমস্যায় ভুগছেন, যা ইউরোপীয় গড়ের ৫০%-এর কাছাকাছি। এছাড়া ৩১% মা মনে করেন মাতৃত্ব তাদের কর্মজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যা ইউরোপের গড় ২৭%-এর চেয়ে বেশি।

তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্রিটিশ মায়েরা তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক। মাত্র ১১% মা জানিয়েছেন, তাদের সঙ্গী পিতৃত্বকালীন ছুটি নেননি, যেখানে ইউরোপীয় গড় ২৫%। এছাড়া, যুক্তরাজ্যের ৩২% মা মনে করেন সমাজ তাদের ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি দেয় না, যা ইউরোপের গড় ৪১%-এর চেয়ে কম।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে যথাযথ সহায়তা না পাওয়া হলে, তারা দীর্ঘ সময় নীরবে কষ্ট ভোগ করছেন। অধ্যাপক অ্যালান গ্রেগোয়ার বলেন, “মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা নিতে সামাজিক কলঙ্ক ও পর্যাপ্ত সুবিধার অভাব রয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের যথেষ্ট প্রশিক্ষণ না থাকায় সমস্যা ধরা পড়ে না।”

এছাড়া কমিউনিটি-ভিত্তিক সহকর্মী গ্রুপ এবং স্থানীয় মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এনসিটি প্যারেন্টিং চ্যারিটির প্রধান নির্বাহী অ্যাঞ্জেলা ম্যাককনভিল জানান, সন্তান জন্মের পর নারী ও নতুন অভিভাবকদের জন্য সেবার ঘাটতি রয়েছে, যা তাদের একাকীত্ব ও মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে।

Make Mothers Matter-এর প্রতিবেদন জানিয়েছে, ইউরোপের মায়েরা আজকাল ২০১১ সালের তুলনায় বেশি মানসিক চাপ, কগনিটিভ ওভারলোড এবং আবেগগত ক্লান্তিতে ভুগছেন। এর পেছনে রয়েছে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, কাজ-জীবনের ভারসাম্যহীনতা, অপর্যাপ্ত যত্নভিত্তিক অবকাঠামো এবং কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব।

স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যা বিভাগ জানায়, “প্রত্যেক মা মানসিক সহায়তার যোগ্য। এনএইচএসে নতুন ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য বিশেষায়িত সেবা, টকিং থেরাপি এবং হেলথ ভিজিটরদের সহায়তা রয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় আরও বিনিয়োগ এবং ৭,০০০ অতিরিক্ত মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।”

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

নাকের স্প্রে ‘সার্বজনীন ভ্যাকসিন’—কাশি, সর্দি, ফ্লু ও ফুসফুসের সংক্রমণে এক সমাধানের আশার আলো

স্কটল্যান্ডে প্রধানমন্ত্রীত্বের লড়াইয়ে প্রথম মুসলিম

যুক্তরাজ্যে টিকটক লাইভে অবৈধভাবে চ্যানেল পার হওয়ার ‘গাইড’ প্রদান নিয়ে কঠোর সমালোচনা