23.5 C
London
May 26, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের শান্ত আবাসিক এলাকায় আশ্রয়প্রার্থী স্থানান্তর পরিকল্পনা ঘিরে ক্ষোভ

যুক্তরাজ্যের কেন্টের একটি শান্ত আবাসিক এলাকায় তরুণ আশ্রয়প্রার্থীদের স্থানান্তরের পরিকল্পনা ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ না করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি গোপনে এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯ সালের মধ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের জন্য হোটেল ব্যবহার বন্ধ করা হবে। এর পরিবর্তে “ডিসপার্সাল স্কিম”-এর আওতায় যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় থাকা সাধারণ বাড়িঘরে তাদের স্থানান্তর করা হবে।

এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কেন্টের একটি বন্ধ সড়কঘেরা আবাসিক এলাকায় কয়েকটি বাড়িকে “হাউস ইন মাল্টিপল অকুপেন্সি” বা এইচএমওতে রূপান্তর করা হয়েছে। প্রতিটি বাড়িতে ছয়জন করে আশ্রয়প্রার্থী রাখার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ১৭ থেকে ২১ বছর বয়সী আশ্রয়প্রার্থীরা সেখানে বসবাস শুরু করবে।

১৪ বছর ধরে এলাকায় বসবাসকারী ৭৪ বছর বয়সী জ্যানেট হাওয়ার্ড বলেন, “এটি খুবই শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর একটি কমিউনিটি ছিল। এখন পুরো পরিবেশ বদলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।”

তার অভিযোগ, এলাকাটি এমন ব্যবস্থার জন্য উপযুক্ত নয় এবং আশ্রয়প্রার্থীরাও সেখানে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়বে।

১৯৬৩ সাল থেকে এলাকায় বসবাসকারী ৮৬ বছর বয়সী জন ফিলিপস বলেন, প্রথমে তাদের জানানো হয়েছিল একটি পরিবার সেখানে উঠবে। পরে তারা জানতে পারেন, বাড়িগুলো আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, “আমাদের প্রকৃত তথ্য জানানো হয়নি। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গোপনে করা হয়েছে।”

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন দীর্ঘদিনের আরেক বাসিন্দা আর্নেস্ট ম্যাকি। তিনি বলেন, “কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। কারা আসছে সে সম্পর্কেও স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।”

এলাকার অনেক বাসিন্দাই নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রায় চার দশক ধরে এলাকায় বসবাসকারী অ্যান্ড্রু ডিল বলেন, আশ্রয়প্রার্থীদের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে স্থানীয়দের মধ্যে অস্বস্তি বেড়েছে।

তিনি বলেন, “এলাকার মানুষ এখন নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। অনেকেই নজরদারি ক্যামেরা ব্যবহার শুরু করেছেন।”

অন্যদিকে ৫১ বছর বয়সী জুলিয়া রাইট জানান, তিনি ও তার ভাই পারিবারিক একটি বাড়ি একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করেছিলেন। পরে জানতে পারেন সেটি আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনে রূপান্তর করা হচ্ছে।

তার ভাষায়, “সরকারের উচিত ছিল পুরো বিষয়টি খোলাখুলিভাবে জানানো। স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা না করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হয়নি।”

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাড়িগুলো গত বছর লন্ডনের কয়েকজন ব্যবসায়ী কিনে নেন এবং পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ক্লিয়ারস্প্রিংস-এর কাছে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে ভাড়া দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের বড় ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত।

এদিকে স্থানীয় কাউন্সিল জানিয়েছে, কোনো বাড়ি আইনগতভাবে এইচএমওর আওতায় পড়লে লাইসেন্স আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা তাদের দায়িত্ব। কাউন্সিলের দাবি, তারা শুধু নিরাপত্তা, ব্যবস্থাপনা ও বসবাসের মানদণ্ড নিশ্চিত করার কাজ করে থাকে।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনা করেই এ আবাসন ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পার্লামেন্ট মেয়াদের মধ্যেই সব আশ্রয়প্রার্থী হোটেল বন্ধ করা হবে এবং তাদের সাবেক সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন সাধারণ আবাসনে স্থানান্তর করা হবে।

সরকার আরও দাবি করেছে, আশ্রয়ব্যবস্থায় সংস্কারের মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসন নিরুৎসাহিত করা এবং যাদের যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার নেই তাদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ জোরদার করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ছোট শহর ও আবাসিক এলাকায় আশ্রয়প্রার্থী স্থানান্তর নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ, নিরাপত্তা বিতর্ক এবং সরকারের অভিবাসন নীতি এখন যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য সান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে নতুন ভবিষ্যত গড়তে মরিয়া তরুণ আলবেনিয়রা

নিউজ ডেস্ক

লন্ডনে মারামারি থামাতে গিয়ে খুন হলেন কুর্দি যুবক, গ্রেপ্তার ২

যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ, লাগবে না আইইএলটিএস