TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকযুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলায় সহযোগিতা করবে না যুক্তরাজ্য

যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালায় তবে এতে ওয়াশিংটনকে কোনও ধরনের সহযোগিতা করবে না যুক্তরাজ্য। তবে, ইরান যদি সংঘাতে জড়ায় এবং সেটি আশপাশে ছড়িয়ে দিতে চায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোকে সহায়তা করবে তারা। ইতোমধ্যে মিত্রদের সহায়তার জন্য কাতারে রাফায়েল টাইফুন মোতায়েন করেছে যুক্তরাজ্য।

প্রতিবেদনে ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি জানায়, ইরানের ওপর প্রথম আঘাত হানা যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক আইন ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে, কাতার বা অন্যান্য আঞ্চলিক মিত্রদের রক্ষায় সহায়তার প্রয়োজন হলে ব্রিটিশ বাহিনী এতে জড়িত হতে পারে।

গত সপ্তাহে কাতারের বিমানবাহিনীতে এক ইউনিট রাফায়েল টাইফুন সংযুক্ত করেছে যুক্তরাজ্য। লিনক্লোনশির থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে গিয়েছে এসব যুদ্ধবিমান। এসব অত্যাধুনিক বিমান এমন সময়ে কাতারের বিমানবাহিনীতে যুক্ত হলো যখন কিনা যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সম্ভাব্য হামলার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে।

ব্রিটিশ একটি সূত্র জানিয়েছে, কাতারের অনুরোধের জেরেই যুদ্ধবিমানগুলো সেখানে পাঠানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে কাতারেই সবচেয়ে বড় বিমান ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের।

চলতি মাসের শুরুর দিকে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলো নিয়ে হুমকি দিয়েছিল। তাদের এই হুমকি এসেছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পরেই। ইরানে বিক্ষোভরতদের সহায়তায় বোমা হামলার কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। এই অঞ্চলে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি বর্তমানে খুবই সামান্য।

বৃহস্পতিবার চীন সফরের সময় ক্রমবর্ধমান সংকট নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপে জড়ানোর বিষয়ে অস্বীকৃতি জানান। তবে, ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে সেই বিষয়ে জোর দেন।

কিয়ার স্টারমার বলেন, “ইরান যেন পারমাণবিক কর্মসূচি অর্জন করতে না পারে, এই বিষয়ে আমরা সবাই একমত। সেই লক্ষ্যেই আমরা মিত্রদের সঙ্গে কাজ করছি এবং মিত্রদের সঙ্গে আমার কাজের মূল কেন্দ্রবিন্দু এটিই।”

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরি মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিজেকে বিভিন্ন বিকল্পের সুযোগ দিতে চাইছেন।

২০২৪ সালের এপ্রিল ও অক্টোবর মাসে ইরান থেকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় ইসরায়েলের দিকে। ওই সময় দখলদারদের সহায়তাকারীদের মধ্যে একটি দেশ ছিল যুক্তরাজ্য। এপ্রিলে যুক্তরাজ্যের যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের অনির্দিষ্ট সংখ্যক ড্রোন ভূপাতিত করে। তবে, অক্টোবরে মাসে এই সংখ্যা ছিল নগণ্য।

টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো কেবল ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র থেকে কাতার বা অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে রক্ষা করার ক্ষেত্রেই সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত দ্রুতগতিতে উড়ে আসে, ফলে সেগুলো যুদ্ধবিমান দিয়ে প্রতিহত করা যায় না। কেবল যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট বা থাড ব্যবস্থার মতো বিশেষায়িত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমেই সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা সম্ভব।

কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক স্থাপনা। এখানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সদর দফতরও। চলতি মাসের শুরুতে সেখানে প্রায় ১০০ জন যুক্তরাজ্যের আরএএফ সদস্য অবস্থান করছিলেন। যদিও উত্তেজনা আগের দফায় বেড়ে যাওয়ার সময় তাদের অধিকাংশকেই সরিয়ে নেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর এফ-১৫ যুদ্ধবিমানগুলো সাফোকের লেকেনহেথ থেকে জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে পুনরায় মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাদের ভূমিকা সম্ভবত ইরানকে আক্রমণ করা নয়, বরং জর্ডান, ইসরায়েল বা উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য প্রতিশোধ থেকে রক্ষা করা।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে কিশোরের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করল হ্যালিফ্যাক্স, বিস্তারিত জানাতে অনীহা

ক্ষমতাচ্যুত বাশারকে ডিভোর্স দিয়ে যুক্তরাজ্যে ফিরতে চান স্ত্রী

টাওয়ার হ্যামলেটস শিক্ষার্থীদের অর্থ প্রদান করা হবে