ইউরোপ ভ্রমণে রাজধানী বা দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরের পরিবর্তে এখন পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে তুলনামূলক কম পরিচিত কিন্তু ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রায় সমৃদ্ধ তৃতীয় সারির শহরগুলোর প্রতি। অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ, ব্যয় বৃদ্ধি এবং স্থানীয়দের অসন্তোষের কারণে ইউরোপের বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় শহরে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের পর ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা এসব বিকল্প শহর ঘুরে দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন।
পর্যটন বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপে রেকর্ড ৭৯ কোটি ৩০ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটকের আগমন ঘটেছে। এর ফলে ইতালির ভেনিস ব্যস্ত মৌসুমে প্রবেশ ফি চালু করেছে। নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম বছরে রাতযাপনকারী পর্যটকের সংখ্যা সীমিত রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে এবং স্পেনের বার্সেলোনা ২০২৮ সালের মধ্যে পর্যটকদের জন্য স্বল্পমেয়াদি আবাসন ব্যবস্থা বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে ইতালির মিলান, পর্তুগালের পোর্তো এবং নেদারল্যান্ডসের রটারডামের মতো বিকল্প শহরগুলোতেও।
এই পরিস্থিতিতে ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা সুইডেনের মালমো, বেলজিয়ামের ঘেন্ট, ইতালির ত্রিয়েস্তে, জার্মানির হামবুর্গ, সুইজারল্যান্ডের বাসেল, ফ্রান্সের লিঁও, স্পেনের বিলবাও, নেদারল্যান্ডসের উট্রেখট, পর্তুগালের ব্রাগা এবং ডেনমার্কের ওডেন্সেকে ইউরোপ ভ্রমণের অন্যতম সেরা বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সুইডেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর মালমো আধুনিক স্থাপত্য, ঐতিহাসিক পাথরের রাস্তা, খাল, সমুদ্রসৈকত এবং উত্তর ইউরোপের অন্যতম উঁচু ভবনের জন্য পরিচিত। বেলজিয়ামের ঘেন্ট মধ্যযুগীয় স্থাপত্য, বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক প্রাণবন্ত পরিবেশ, নদীতীরের ক্যাফে এবং শিল্প-সংস্কৃতির জন্য পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়।
ইতালির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্দরনগরী ত্রিয়েস্তে ইতালীয়, অস্ট্রীয় ও স্লোভেনীয় সংস্কৃতির অনন্য মিশ্রণে গড়ে উঠেছে। জার্মানির হামবুর্গ তার নদীবন্দর, ঐতিহ্যবাহী মাছের বাজার, খালঘেরা নগরজীবন এবং প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশের জন্য সুপরিচিত।
সুইজারল্যান্ডের বাসেল শিল্পকলা, জাদুঘর এবং রাইন নদীকেন্দ্রিক জীবনধারার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ফ্রান্সের লিঁও রোমান যুগের নিদর্শন, ঐতিহাসিক স্থাপনা, জমজমাট বাজার এবং বিশ্বখ্যাত খাদ্যসংস্কৃতির কারণে ইউরোপের অন্যতম আকর্ষণীয় শহর হিসেবে বিবেচিত হয়।
স্পেনের বিলবাও আধুনিক শিল্প, নদীতীরের সৌন্দর্য এবং বাস্ক সংস্কৃতির জন্য বিখ্যাত। নেদারল্যান্ডসের উট্রেখট খালবেষ্টিত পুরোনো শহর, মধ্যযুগীয় স্থাপত্য এবং ঐতিহাসিক গির্জার জন্য ভ্রমণপ্রেমীদের আকর্ষণ করে।
পর্তুগালের ব্রাগা দেশটির অন্যতম প্রাচীন ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক শহর। অন্যদিকে ডেনমার্কের ওডেন্সে, বিশ্বখ্যাত রূপকথার লেখক হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসেনের জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত। শহরটির ঐতিহাসিক বাড়িঘর, জাদুঘর, পার্ক এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশ পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর ভিড় এড়িয়ে এসব শহর ভ্রমণ করলে পর্যটকরা শুধু কম খরচেই ভ্রমণ করতে পারবেন না, বরং স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, খাবার এবং জীবনধারার প্রকৃত স্বাদও উপভোগ করতে পারবেন। আগামী বছরগুলোতে ইউরোপের পর্যটন মানচিত্রে এসব তৃতীয় সারির শহরের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও তারা মনে করছেন।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

