6.5 C
London
February 5, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

রেকর্ড ভিসা বাতিলঃ ২০২৫ সালে এক লাখের বেশি মার্কিন ভিসা প্রত্যাহার

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে, যা এক বছরে সর্বোচ্চ রেকর্ড। আগের বছর ২০২৪ সালে যেখানে প্রায় ৪০ হাজার ভিসা বাতিল হয়েছিল, সেখানে চলতি বছরে এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, জানুয়ারি ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত এক নির্বাহী আদেশের পর থেকেই ভিসা বাতিলের হার দ্রুত বেড়েছে। ওই আদেশের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের জন্য কঠোর যাচাই-বাছাই নীতি পুনর্বহাল করা হয় এবং ভিসা ইস্যুর পর নজরদারি আরও বিস্তৃত করা হয়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ভিসার মধ্যে প্রায় ৮ হাজার ছিল শিক্ষার্থী ভিসা এবং ২ হাজার ৫০০টি ছিল বিশেষায়িত কর্মী ভিসা। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভিসাধারীরা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে এসেছিলেন।
তবে মোট ভিসা বাতিলের বড় অংশই ছিল ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা ব্যক্তিদের (ওভারস্টে) ভিসা ব্যাপকভাবে বাতিল করা হয়েছে।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক মুখপাত্র জানান, অনেক শিক্ষার্থী ও কর্মী ভিসা গ্রেপ্তার, ফৌজদারি অভিযোগ বা আদালতের মামলার পর বাতিল করা হয়েছে। অন্য কিছু ভিসা বাতিল হয়েছে নতুন করে চালু হওয়া বর্ধিত স্ক্রিনিং ও নিরাপত্তা পর্যালোচনার আওতায়।

বিশেষায়িত কর্মী ভিসাধারীদের বিরুদ্ধে যেসব অপরাধ উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, হামলা, চুরি, প্রতারণা এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধ।

এই কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র চালু করেছে ‘কন্টিনিউয়াস ভেটিং’ বা নিরবচ্ছিন্ন যাচাই ব্যবস্থা। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পরও ভিসাধারীদের তথ্য নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের আগস্টে জানানো হয়, বৈধ মার্কিন ভিসাধারী প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ বিদেশি নাগরিকের স্ট্যাটাস খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এছাড়া ‘পাবলিক চার্জ’ নীতিও আবার সক্রিয়ভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন—এমন আশঙ্কা থাকলে তার ভিসা বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর স্বাস্থ্য, বয়স, আর্থিক সক্ষমতা ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বিবেচনায় নেওয়া হয়।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য জননিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা। তবে ভিসা বাতিলের এই ব্যাপকতা বিশ্ববিদ্যালয়, নিয়োগকর্তা এবং অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তারা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এরই মধ্যে ২০২৫ সালের শুরুতে কিছু শিক্ষার্থী ভিসা বাতিলের ঘটনায় আইনি চ্যালেঞ্জও দেখা গেছে।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, বর্ধিত যাচাই-বাছাই ব্যবস্থা বহাল থাকায় ২০২৬ সাল পর্যন্ত ভিসা পর্যালোচনা ও বাতিলের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সূত্রঃ দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

পৃথিবীর প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সিইও মিকা

নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে গাজাকে গোরস্থানে পরিণত করেছে ইসরায়েলঃ জাতিসংঘ

ট্রাম্পের শুল্কের জবাবে ভারতজুড়ে আমেরিকান পণ্য বর্জনের প্রচারণা