লন্ডনের গণপরিবহন ব্যবস্থায় আবারও বড় ধরনের অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডের চালকদের পক্ষ থেকে ছয় দফায় ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা এপ্রিল, মে ও জুন মাসজুড়ে চলবে।
রেল, মেরিটাইম অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট (আরএমটি) ইউনিয়নের সদস্যরা চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। প্রথম ধর্মঘট শুরু হবে ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে।
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২১–২২ এপ্রিল এবং ২৩–২৪ এপ্রিলের পর মে ও জুন মাসেও চারটি পৃথক সময়ে ধর্মঘট পালিত হবে। প্রতিটি কর্মসূচি ২৪ ঘণ্টা স্থায়ী হবে, যা লন্ডনের ব্যস্ততম পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ধর্মঘট চলাকালে পিকাডিলি ও সার্কেল লাইনে সম্পূর্ণ সেবা বন্ধ থাকবে। এছাড়া মেট্রোপলিটন লাইনের বেকার স্ট্রিট থেকে অল্ডগেট অংশ এবং সেন্ট্রাল লাইনের হোয়াইট সিটি থেকে লিভারপুল স্ট্রিট অংশেও ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। অন্য লাইনগুলোতেও উল্লেখযোগ্য বিঘ্ন ঘটবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পরিবহন সংস্থা ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন সতর্ক করে জানিয়েছে, ধর্মঘটের দিনগুলোতে প্রথম ট্রেনে ওঠা কঠিন হতে পারে এবং বিকল্প পরিবহন যেমন লন্ডন ওভারগ্রাউন্ড, ডিএলআর, এলিজাবেথ লাইন, ট্রাম ও বাসে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে। এর পাশাপাশি ২৪ এপ্রিল পৃথক একটি বাস ধর্মঘটও নির্ধারিত রয়েছে, যা নির্দিষ্ট কয়েকটি রুটে চলাচল ব্যাহত করবে।
ধর্মঘটের মূল কারণ হিসেবে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালুর প্রস্তাবকে ঘিরে মতবিরোধকে দায়ী করা হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, চালকদের সাপ্তাহিক কাজের সময় ৩৬ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ৩৫ ঘণ্টা করা হবে এবং বেতন অপরিবর্তিত থাকবে। তবে এতে প্রতিদিন কাজের সময় বাড়বে, যদিও সপ্তাহে কাজের দিন কমবে।
আরএমটি ইউনিয়নের অভিযোগ, এই ব্যবস্থায় দৈনিক দীর্ঘ সময় কাজ করতে হবে, যা চালকদের ক্লান্তি বাড়িয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে। তাদের দাবি, চার দিনে ৩২ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহ চালু করতে হবে, যাতে একই বেতনে কম সময় কাজ করা সম্ভব হয়।
অন্যদিকে, ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন জানিয়েছে, প্রস্তাবটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাভিত্তিক এবং চালকেরা চাইলে পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ বজায় রাখতে পারবেন। সংস্থাটির দাবি, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে সেবার নির্ভরযোগ্যতা ও নমনীয়তা বাড়ানো সম্ভব হবে এবং চালকেরা অতিরিক্ত একদিন ছুটি পাবেন।
তবে আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাধানের জন্য তারা আলোচনা চালালেও কর্তৃপক্ষ কোনো ছাড় দিতে রাজি হয়নি।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বর মাসে বেতন ও কর্মপরিবেশ নিয়ে বিরোধের জেরে লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডে ধর্মঘট হয়েছিল, যা রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল। নতুন করে ঘোষিত এই ধর্মঘটও একই ধরনের ভোগান্তি ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

