5.5 C
London
March 13, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনে আল-কুদস দিবস ঘিরে উত্তেজনা, অভিবাসন নীতিকে দায়ী করে ফারাজের তীব্র আক্রমণ

যুক্তরাজ্যে আল-কুদস দিবসকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য উত্তেজনা ও সংঘর্ষের আশঙ্কার মধ্যে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ। এদিকে রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজ অভিবাসন নীতির সমালোচনা করে দাবি করেছেন, ব্যাপক অভিবাসনের ফলে যুক্তরাজ্যে এমন লোক বসবাস করছে যারা ইরানের ধর্মীয় শাসকদের “বর্বরতা” সমর্থন করে।

ডেইলি এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাইজেল ফারাজ বলেন, তেহরানের আয়াতুল্লাহ এবং তার ঘনিষ্ঠরা যুক্তরাজ্যে ইসলামপন্থা, সাম্প্রদায়িক ভোটব্যাংক রাজনীতি এবং ইহুদিবিদ্বেষ ছড়াতে অর্থায়ন করছে। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের মতো দেশে বসবাস করেও কিছু মানুষ ইরানের শাসনব্যবস্থার প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে, যা তার মতে অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

ফারাজ অভিযোগ করেন, তেহরানের “উন্মাদ মোল্লাদের” সমর্থনে যারা বিক্ষোভ করছে তারা এমন একটি শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন করছে যেখানে নারীদের পাথর ছুড়ে হত্যা করা হয় এবং সমকামীদের ফাঁসি দেওয়া হয়। তার দাবি, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত।

তিনি আরও বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে জয়ী হয়, তবে তা ব্রিটিশ রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তার মতে, ইরানের কোটি কোটি পার্সিয়ান মানুষ বর্তমান শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ পাবে।

ফারাজ যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিকেও তীব্রভাবে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বোরিস জনসনের সময় যে অভিবাসন প্রবাহ তৈরি হয়েছিল—যাকে তিনি “বোরিস ওয়েভ” হিসেবে উল্লেখ করেন—তার মাধ্যমে ভুল মানুষদের দেশে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, এমন কিছু মানুষ যুক্তরাজ্যে এসেছে যারা ব্রিটিশ সমাজের মূল্যবোধকে সমর্থন করে না।

এদিকে সম্ভাব্য সংঘর্ষ ঠেকাতে মেট্রোপলিটন পুলিশ অভূতপূর্ব ব্যবস্থা নিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আল-কুদস দিবসের সমর্থক বিক্ষোভকারী ও ইরানবিরোধী পাল্টা প্রতিবাদকারীদের আলাদা রাখতে টেমস নদীকে একটি প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

পুলিশের আরোপিত শর্ত অনুযায়ী, আল-কুদস দিবস উপলক্ষে সমবেত হওয়া লোকজনকে টেমস নদীর দক্ষিণ তীরের আলবার্ট এমব্যাংকমেন্ট এলাকায় অবস্থান করতে হবে। অন্যদিকে পাল্টা বিক্ষোভকারীদের উত্তর তীরের মিলব্যাংক এলাকায় সীমাবদ্ধ রাখা হবে।

ধারণা করা হচ্ছে অন্তত ১২ হাজার মানুষ লন্ডনের রাস্তায় সমবেত হতে পারে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে।

মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার স্যার মার্ক রাউলি বলেন, মূল বিক্ষোভ ও পাল্টা বিক্ষোভ আয়োজনকারী দলগুলোর লক্ষ্য একে অপরের সম্পূর্ণ বিপরীত এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতিও অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। তার মতে, এই অবস্থায় দুই পক্ষ কাছাকাছি অবস্থান করলে গুরুতর সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে লন্ডনে ইহুদিবিদ্বেষী ও ইসলামবিদ্বেষী ঘৃণামূলক অপরাধের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি ইরানের ভিন্নমতাবলম্বী ও ইহুদি সম্প্রদায়ও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

স্যার মার্ক রাউলি বলেন, বিক্ষোভ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়নি, তবে মিছিলের পরিবর্তে স্থির সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কারণ এ ধরনের সমাবেশ নিয়ন্ত্রণ করা পুলিশের জন্য তুলনামূলক সহজ এবং এতে সহিংসতার ঝুঁকি কম থাকে।

আল-কুদস দিবসের সূচনা হয়েছিল ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর এবং প্রতি বছর রমজানের শেষ শুক্রবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটি পালন করা হয়। আয়োজক সংগঠন ইসলামিক হিউম্যান রাইটস কমিশন—আইএইচআরসি—এটিকে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন প্রকাশের একটি দিন হিসেবে বর্ণনা করে।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

বরিস জনসন কী ‘অর্থের বিনিময়ে প্রবেশের সংস্কৃতি’ তৈরি করেছে?

যুক্তরাজ্যে গত বছরে গড়ে প্রতিদিন বন্ধ হয়েছে ১৪ চেইন স্টোর

ব্রিটেনে হত্যা সন্দেহে পাঁচ শিশু গ্রেপ্তার