TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনে নিরাপদ আশ্রয়ের নতুন উদ্যোগঃ হোম অফিসের রেইড ঠেকাতে পদক্ষেপ

লন্ডনের গ্রিন-নেতৃত্বাধীন লুইশাম কাউন্সিল হোম অফিসের অভিবাসন অভিযান (ইমিগ্রেশন রেইড) পরিচালনায় সহযোগিতা বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী সপ্তাহে কাউন্সিল সভায় এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবের ওপর ভোট অনুষ্ঠিত হবে। প্রস্তাবটি পাস হলে কাউন্সিল তাদের তথ্য সংগ্রহ, ব্যয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাগুলো পর্যালোচনা করবে, যাতে বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি নেই—এমন ব্যক্তিদের বহিষ্কারে সরকারের প্রচেষ্টায় কোনো ধরনের সহযোগিতা না করা হয়।

এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে ২০২৩ সালের একটি ইমেইল, যা কাউন্সিল কর্মকর্তারা খুঁজে পেয়েছেন। ওই ইমেইলে হোম অফিসের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট টিম কাউন্সিলের ফুড স্ট্যান্ডার্ডস বিভাগের কাছে ‘যৌথ অভিযান’ পরিচালনায় সহায়তা চেয়েছিল। গ্রিন কাউন্সিলরদের দাবি, এতে রেস্তোরাঁ কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করতে স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য ব্যবহারের সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি বলেন, লন্ডনের গ্রিন-নেতৃত্বাধীন কাউন্সিলগুলো এমন একটি ‘সাংচুয়ারি করিডোর’ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে অভিবাসী, আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীরা জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার ভয়ে না থেকে নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন। তিনি এ উদ্যোগকে মানবিক ও সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন।

অন্যদিকে হোম অফিস জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে লুইশাম কাউন্সিলের ‘সহযোগিতামূলক সম্পর্ক’ রয়েছে। এক মুখপাত্র বলেন, সব অভিবাসন অভিযান গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয় এবং অভিবাসন অপরাধে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান জরুরি।

ক্ষমতায় আসার পর লেবার সরকার অভিবাসনবিরোধী অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। হোম অফিসের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর নেইল বার, কার ওয়াশ, নরসুন্দরখানা ও টেকঅ্যাওয়ে প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত অভিযানের সংখ্যা ৭৭ শতাংশ বেড়েছে এবং গ্রেপ্তার বেড়েছে ৮৩ শতাংশ।

তবে এসব অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। মাইগ্রেশন অবজারভেটরির জ্যেষ্ঠ গবেষক পিটার ওয়ালশ বলেন, কর্মস্থলে অভিযান চালানোয় কিছু নিয়োগকর্তা অবৈধভাবে কাজের অনুমতি নেই এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে নিরুৎসাহিত হন। কিন্তু যুক্তরাজ্যে অনুমতিহীন অভিবাসীর সংখ্যা কয়েক লাখ হওয়ায় এসব অভিযান খুব সীমিত সংখ্যক প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারে এবং এগুলো ব্যয়বহুল ও জনবলনির্ভর।

গত মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে গ্রিন পার্টি বড় ধরনের সাফল্য পেয়ে সাউথওয়ার্ক, হ্যারিঙ্গে, হ্যাকনি, লুইশাম, ল্যামবেথ ও ওয়ালথাম ফরেস্টসহ একাধিক কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর আগে ২০২১ সালে লেবার প্রশাসনের সময় লুইশামকে ‘সাংচুয়ারি বরো’ ঘোষণা করা হয়েছিল।

গ্রিন কাউন্সিলররা জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি পাস হলে কাউন্সিলের সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে থাকা চুক্তিও পর্যালোচনা করা হবে। এর মধ্যে গৃহহীনদের সহায়তাকারী সংস্থা স্ট মাঙ্গোসের মতো প্রতিষ্ঠানও থাকতে পারে, যারা অতীতে অভিবাসী গৃহহীনদের তথ্য হোম অফিসের সঙ্গে ভাগাভাগি করার ঘটনায় সমালোচিত হয়েছিল।

আগামী বুধবার কাউন্সিল সভায় এ প্রস্তাবের ওপর ভোট হবে। কাউন্সিলের ৫৪টির মধ্যে ৪০টি আসন গ্রিন পার্টির দখলে থাকায় প্রস্তাবটি পাস হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

ব্রেক্সিটের পর অভিবাসন নিয়ম সহজ করার প্রতিশ্রুতি ব্রিটিশ মন্ত্রীদের

বিদেশি অপরাধীদের দেশে ফেরাতে সর্বোচ্চ £2,000 দিচ্ছে ব্রিটেন

যুক্তরাজ্যে কোভিড ভ্যাকসিন বিক্রয়ের অনুমতি দিতে যাচ্ছে সরকার

নিউজ ডেস্ক