লন্ডনের রাস্তায় প্রথমবারের মতো হ্যান্ডহেল্ড ফেসিয়াল রিকগনিশন ডিভাইস পরীক্ষামূলক ভাবে ব্যবহার করতে যাচ্ছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। ছয় মাসব্যাপী ট্রায়াল কর্মসূচির আওতায় ১০০টি ডিভাইস ব্যবহার করা হবে। এ প্রকল্পের জন্য প্রায় ৭ লাখ ৬৩ হাজার পাউন্ড বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
লন্ডনের মেয়র সাদিক খান সিটি হলে প্রশ্নোত্তর পর্বে জানান, অপারেটর-ইনিশিয়েটেড ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ঘটনাস্থলেই কারও পরিচয় যাচাই করতে সহায়তা করবে। এর ফলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়ার প্রয়োজন কমবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হলে এটি পুলিশি কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করবে।
মেয়র আরও জানান, প্রযুক্তিটির ব্যবহার তদারকি করবে মেয়র’স অফিস ফর পুলিশিং এন্ড ক্রাইম এবং লন্ডন পুলিশিং এথিক্স প্যানেল। যাতে এর প্রয়োগ সঠিক, অনুপাতগত এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট থাকে। প্রত্যাশিত ফল না এলে এটি স্থায়ীভাবে চালু নাও করা হতে পারে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
তবে উদ্যোগটি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। লন্ডন অ্যাসেম্বলির গ্রিন পার্টির সদস্য জো গার্বেট অভিযোগ করেন, এই প্রযুক্তি পুলিশি ক্ষমতার বড় ধরনের সম্প্রসারণ। তার দাবি, যুক্তরাজ্যে যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া কাউকে নিজের পরিচয় দিতে বাধ্য করা যায় না, আর এ ধরনের প্রযুক্তি সেই মৌলিক অধিকারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
নাগরিক অধিকার সংগঠন বিগ ব্রাদার ওয়াচের লিগ্যাল ও পলিসি অফিসার জ্যাসলিন চ্যাগার বলেন, নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই এমন প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার উদ্বেগজনক। তার মতে, এতে সাধারণ মানুষ অনিচ্ছাকৃতভাবে নজরদারির আওতায় চলে আসতে পারেন এবং গোপনীয়তার অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
অন্যদিকে মেট পুলিশের ফেসিয়াল রিকগনিশন বিভাগের প্রধান লিন্ডসে চিসউইক জানান, সীমিত সংখ্যক প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করবেন। কারও ছবি নেওয়ার পর ডাটাবেসে মিল না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বায়োমেট্রিক তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে মুছে ফেলা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মেট পুলিশের লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির বিস্তৃত ব্যবহারের বিষয়টিও বিভিন্ন নাগরিক অধিকার সংগঠন ও আইনপ্রণেতাদের সমালোচনার মুখে পড়ে। নতুন এই হ্যান্ডহেল্ড প্রযুক্তির ট্রায়াল কার্যক্রম ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যে নজরদারি ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ভারসাম্য নিয়ে আরও বিস্তৃত বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে

