TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

শিশুদের আপত্তিকর ছবি তৈরির অভিযোগে এক্স বর্জনের পথে ব্রিটিশ সরকার

ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এর এআই টুল ‘গ্রোক’ ব্যবহার করে শিশুদের আপত্তিকর ও বিকৃত ছবি তৈরির অভিযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। এই প্রেক্ষাপটে প্ল্যাটফর্মটি সরকারি পর্যায়ে ব্যবহার বন্ধ করা হবে কি না—সে বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন লেবার পার্টির চেয়ারপারসন ও ক্যাবিনেট অফিস মন্ত্রী অ্যানা টারলি।

 

সাম্প্রতিক সময়ে গ্রোকের ইমেজ জেনারেশন সুবিধা ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির, এমনকি শিশুদের ক্ষেত্রেও আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরির অভিযোগ সামনে আসে। ডিজিটাল উপায়ে ছবি বিকৃত করার এই প্রবণতা আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এবং যুক্তরাজ্যে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চাপ বাড়িয়েছে।

বিবিসি রেডিও ফোর-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অ্যানা টারলি বলেন, এক্সকে অবিলম্বে এই ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবেও তিনি এক্স ছাড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন এবং সরকারের বিভিন্ন স্তরে অনলাইন নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

সরকার জানিয়েছে, মিডিয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকমকে প্রয়োজনীয় পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা এক্সের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে। অনলাইন নিরাপত্তা আইন ও বিদ্যমান বিধিবিধানের আওতায় প্ল্যাটফর্মটির দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই পরিস্থিতিকে ‘বেআইনি ও অসহনীয়’ আখ্যা দিয়ে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি এক্স কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার নির্দেশ দেন এবং প্রয়োজনে সরকারের হাতে থাকা সব বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনার কথা বলেন।

ইতোমধ্যে উইমেন অ্যান্ড ইকুয়ালিটিস কমিটিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটি এক্সকে সরকারি যোগাযোগের জন্য অনুপযুক্ত ঘোষণা করে প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার বন্ধ করেছে। অনেক প্রভাবশালী এমপি ও সংসদীয় কমিটির একই সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে।

এক্স কর্তৃপক্ষের দাবি, গ্রোকের ইমেজ তৈরির সুবিধা কেবল পেইড ব্যবহারকারীদের জন্য সীমিত করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, এই পদক্ষেপ যথেষ্ট নয় এবং আরও শক্ত নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

সরকারের ভেতরে মতভেদ থাকলেও অধিকাংশ মন্ত্রী মনে করছেন, বর্তমান আপত্তিকর কনটেন্টের পরিবেশে এক্সে উপস্থিত থাকা সরকারের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। যদিও কেউ কেউ বৃহৎ জনসম্পৃক্ততার যুক্তিতে প্ল্যাটফর্মে থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন, তবু শিশু সুরক্ষা ও অনলাইন নিরাপত্তার প্রশ্নে এক্স ছাড়ার পক্ষেই পাল্লা ভারী হয়ে উঠছে।

সূত্রঃ বিবিসি রেডিও ৪

এম.কে

আরো পড়ুন

বরিস বেকারকে নির্বাসন দেওয়া হতে পারে

৫০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল ব্রিটেনঃ ট্রাম্প যুগে বৈশ্বিক প্রভাব হারাল যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যে রুয়ান্ডা নীতির আওতায় ‘অগ্রহণযোগ্য’ সব আশ্রয় আবেদনের নতুন প্রক্রিয়াকরণ শুরু