TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

শিশুমৃত্যুর পর ইংল্যান্ডে খৎনা নিয়ে সতর্কতাঃ সিপিএস নির্দেশিকা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া

ইংল্যান্ডে চিকিৎসাবহির্ভূত পুরুষ খৎনা নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। পশ্চিম লন্ডনে ছয় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর পর একজন করোনার সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের খৎনার ওপর যদি স্পষ্ট নিয়ন্ত্রণ ও বিধিমালা প্রণয়ন না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও শিশু মারা যেতে পারে।

 

চিকিৎসাবহির্ভূত খৎনা বলতে চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়াই ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কারণে পুরুষ শিশু ও কিশোরদের লিঙ্গের অগ্রচর্ম অপসারণকে বোঝায়। ইংল্যান্ডে এ ধরনের খৎনার জন্য বর্তমানে কোনো জাতীয় পর্যায়ের নিয়ন্ত্রক কাঠামো নেই, যা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

ওয়েস্ট লন্ডন করোনারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ আবদিসামাদ নামের শিশুটিকে ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি খৎনা করা হয়। তার বাবা-মায়ের অনুরোধে এবং তাদের সুপারিশপ্রাপ্ত একজন খৎনাকারী এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। খৎনার তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

১৯ ফেব্রুয়ারি শিশুটিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হিলিংডন হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার হৃদযন্ত্র ও শ্বাসক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সেদিন রাত ২৩:৫৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনাটি দেশজুড়ে গভীর উদ্বেগ ও আলোড়ন সৃষ্টি করে।

২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর শেষ হওয়া একটি জুরি তদন্তে শিশুটির মৃত্যুর চিকিৎসাগত কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়— “পুরুষ খৎনার পর সৃষ্ট আক্রমণাত্মক স্ট্রেপটোকক্কাস পাইওজেনেস সংক্রমণ”। তদন্তে উঠে আসে, খৎনার পর যথাযথ পরিচর্যা ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি মারাত্মক পরিণতির দিকে নিয়ে যায়।

এই ঘটনার পর সহকারী করোনার অ্যান্টন ভ্যান ডেলেন ভবিষ্যতে এ ধরনের মৃত্যু প্রতিরোধে একটি ‘প্রিভেনশন অব ফিউচার ডেথস’ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর তারিখের প্রতিবেদনে তিনি জানান, তদন্তে এমন বহু তথ্য উঠে এসেছে যা গভীর উদ্বেগের কারণ।

প্রতিবেদনে ডা. ভ্যান ডেলেন বলেন, যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতেও এই ধরনের মৃত্যুর ঝুঁকি থেকে যাবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইংল্যান্ডে চিকিৎসাবহির্ভূত পুরুষ খৎনার ক্ষেত্রে কোনো জাতীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। যারা এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন, তাদের জন্য প্রশিক্ষণ, স্বীকৃতি বা নিবন্ধনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
এছাড়া খৎনার আগে অভিভাবকদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক সম্মতি নেওয়ার কোনো নির্ধারিত পদ্ধতি নেই। নথি সংরক্ষণ, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং খৎনার পর চিকিৎসা বা পরিচর্যার ক্ষেত্রেও কোনো স্পষ্ট নিয়ম নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস একটি খসড়া নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে ভুলভাবে সম্পাদিত খৎনাকে ক্ষতিকর প্রথা এবং ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। খসড়া নথিতে খৎনাকে শিশু নির্যাতনের সম্ভাব্য একটি রূপ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই নির্দেশিকার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের নেতারা। তাদের মতে, ধর্মীয় রীতির অংশ হিসেবে খৎনাকে অপরাধের আওতায় আনা ধর্মীয় স্বাধীনতায় সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল।

করোনারের প্রতিবেদনটি স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যা বিভাগ এবং আবাসন, কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন জারির তারিখ থেকে ৫৬ দিনের মধ্যে জবাব দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিবেদনের অনুলিপি শিশুটির বাবা-মা, নানী, মামা এবং লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণ ও মানভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রয়োজন হলেও বিষয়টি ধর্মীয় সংবেদনশীলতা বিবেচনায় রেখেই সমাধান করা জরুরি। ফলে শিশু সুরক্ষা ও ধর্মীয় অধিকার—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন ইংল্যান্ড সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

যেসব দেশ নাগরিক ফেরত নেবে না, সেইসব দেশের  ভিসা স্থগিতের সম্ভাবনাঃ যুক্তরাজ্য

বার্মিংহামে কিশোরী অপহরণের চেষ্টায় পিতা-পুত্র আটক

ইউরো জিতলে ছুটির দাবিতে চাপের মুখে বরিস জনসন

অনলাইন ডেস্ক