9.1 C
London
October 10, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

শেখ হাসিনার আমলে পিলখানা ও যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে সরব ছিলেন নোবেলজয়ী নাভি পিল্লাই

শেখ হাসিনার সরকারের আমলে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং বিচারপ্রক্রিয়ার ন্যায্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন জাতিসংঘের তৎকালীন মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। বিশেষ করে, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিপুলসংখ্যক আসামির বিচার, হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ এবং মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে ২০১৩ সালে তিনি উদ্বেগ তুলে ধরেন। একই সময়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই আইনবিদ।

৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশের তৎকালীন সরকারের আমলে মানবাধিকার নিয়ে তার অবস্থান নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার, নির্যাতন প্রতিরোধ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন এই আইনবিদ ও বিচারক।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) সদর দপ্তরে বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৭৪ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ৫৭ জন ছিলেন সেনা কর্মকর্তা। বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অপরাধীদের বিচারের পাশাপাশি অভিযুক্তদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনায় আসে।

২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ঢাকার একটি বিশেষ আদালত পিলখানা হত্যা মামলায় ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এর পরদিন, ৬ নভেম্বর, বিচারপ্রক্রিয়া এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তৎকালীন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার নাভি পিল্লাই।

বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে তার উদ্বেগের মধ্যে ছিল বিপুলসংখ্যক আসামিকে একসঙ্গে বিচারের মুখোমুখি করা, পর্যাপ্ত আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ এবং অভিযুক্তদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ। হেফাজতে কয়েকজনের মৃত্যুর খবর এবং নির্যাতনের মাধ্যমে আদায় করা প্রমাণ আদালতে ব্যবহারের অভিযোগও গুরুত্ব পেয়েছিল।

এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, তদন্তের ফলাফল প্রকাশ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছিলেন পিল্লাই। তার অবস্থানের মূল কথা ছিল, গুরুতর অপরাধের বিচার অবশ্যই হতে হবে, তবে তা হতে হবে ন্যায়সংগত এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিচার না হওয়া এসব অপরাধের বিচার বাংলাদেশের ইতিহাস ও রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়।

তবে বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রতিরক্ষা পক্ষের সাক্ষীদের নিরাপত্তা এবং মৃত্যুদণ্ডের মতো শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার বিষয়গুলো আলোচনায় আসে।

২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি যোগাযোগে আবদুল কালাম আজাদের অনুপস্থিতিতে বিচার, রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর পর্যাপ্ততা এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক চাপের অভিযোগের মতো বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল। এসব ছিল প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে উত্থাপিত অভিযোগ ও উদ্বেগ; এগুলোকে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

এ ক্ষেত্রে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দুটি পৃথক বিষয়। উভয় ক্ষেত্রেই বিচারপ্রক্রিয়ার ন্যায্যতা, অভিযুক্তদের অধিকার এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের বাধ্যবাধকতা অনুসরণের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

নাভি পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার একজন আইনজীবী ও বিচারক। বর্ণবাদবিরোধী সংগ্রামের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তার কর্মজীবন গড়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করেন তিনি। গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, নির্যাতন এবং যৌন সহিংসতার বিচার তার কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্তদের ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার রক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন পিল্লাই।

৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। এর পর বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তার অতীতের বক্তব্য আবারও আলোচনায় আসে।

সূত্রঃ ওএইচসিএইচআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

এমকে

আরো পড়ুন

ইসিতে নিবন্ধন পেল বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি, প্রতীক ‘রকেট’

১ আগস্ট পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

বাকেরগঞ্জে কুকুরকে ফাঁস দিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা, যুবককে জরিমানা