ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, লেখক ও অধ্যাপক নরম্যান ফিঙ্কেলস্টেইনের একটি মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই বক্তব্যে তিনি বলেন, “ইসরায়েল শিশু হত্যা করে যেন শখের বশে। সমস্যা শুধু বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নন, বরং পুরো ইসরায়েলি সমাজ।”
প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জনকারী নরম্যান ফিঙ্কেলস্টেইন দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত, জায়নবাদ, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং গাজায় সামরিক অভিযান নিয়ে গবেষণা ও লেখালেখি করে আসছেন। তিনি ইসরায়েল সরকারের নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম সমালোচক হিসেবে পরিচিত।
ফিঙ্কেলস্টেইনের বক্তব্যের সমর্থকরা দাবি করেন, গাজার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সামরিক অভিযানের ফলে বিপুল সংখ্যক বেসামরিক মানুষ, বিশেষ করে শিশু নিহত হয়েছে। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত এবং কোনো রাষ্ট্র বা তার নেতৃত্বকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখা উচিত নয়।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের সমর্থক ও সমালোচকদের একটি অংশ ফিঙ্কেলস্টেইনের বক্তব্যকে অত্যন্ত উসকানিমূলক, অতিরঞ্জিত এবং অনেকের মতে ইহুদিবিদ্বেষী ভাষ্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের দাবি, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করে না। বরং হামাসসহ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সামরিক অবকাঠামো স্থাপন করায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এছাড়া সমালোচকদের মতে, ইসরায়েলি সমাজকে সামগ্রিকভাবে দায়ী করা বাস্তবতাকে সরলীকরণ করে। তাদের যুক্তি, দেশটিতে যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন, সরকারের নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্য দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যমান, যা সমাজের বহুমাত্রিক চরিত্রকে তুলে ধরে।
বিশ্লেষকদের মতে, ফিঙ্কেলস্টেইনের মন্তব্য আবারও ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিয়ে বৈশ্বিক বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে। তবে তার বক্তব্য নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে পক্ষে-বিপক্ষে তীব্র মতভেদ অব্যাহত রয়েছে।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে

