19.4 C
London
September 20, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

সাইপ্রাসে ভয়াবহ ফেরি দুর্ঘটনাঃ ২৭০ আরোহী নিয়ে তুরস্কের পথে নৌযান ডুবি

সাইপ্রাসের উত্তর উপকূলে ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনায় অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। তুরস্কের উদ্দেশে যাত্রা করা একটি যাত্রীবাহী ফেরি কিরেনিয়া বন্দর ছাড়ার কিছুক্ষণ পরই সাগরে উল্টে ডুবে যায়। দুর্ঘটনার সময় নৌযানটিতে প্রায় ২৭০ জন আরোহী ছিলেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই শুরু হয়েছে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান।

রোববার দুপুরে কিরেনিয়া থেকে তুরস্কের তাসুজু বন্দরের উদ্দেশে ফেরিটি যাত্রা শুরু করে। বন্দর ছাড়ার অল্প সময়ের মধ্যেই কিরেনিয়ার উপকূল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার উত্তরে নৌযানটি বিপদের মুখে পড়ে। একপর্যায়ে এটি সাগরে উল্টে যায় এবং ডুবে যায়।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তুর্কি সাইপ্রিয়ট উপকূলরক্ষী বাহিনীর নৌযান ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। কিরেনিয়া থেকে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার এবং আরও কয়েকটি নৌযান পাঠানো হয়। আশপাশে থাকা বেসরকারি নৌযানও উদ্ধারকাজে যোগ দেয়।

কিরেনিয়ার মেয়র মুরাত শেনকুল ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রাথমিকভাবে তিনি জানান, নৌযানটিতে প্রায় ২৭০ জন মানুষ ছিলেন।

উদ্ধার অভিযানের মধ্যে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ফেরিতে থাকা ২৫৮ জন যাত্রীর মধ্যে ১৫৯ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। ফলে প্রায় ৯৯ জন যাত্রীর অবস্থান তখনও নিশ্চিত করা যায়নি। তবে মোট আরোহীর সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে সামান্য পার্থক্য রয়েছে।

দুর্ঘটনায় অন্তত একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। উত্তর সাইপ্রাসের গণপূর্ত ও পরিবহনমন্ত্রী এরহান আরিকলি জানান, উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের অন্য নৌযানে স্থানান্তর করে কিরেনিয়া বন্দরে নিয়ে আসা হচ্ছে।

উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য কিরেনিয়া বন্দরে অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়। পাশাপাশি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বন্দরে একটি অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করেন। আহত ও অসুস্থ যাত্রীদের সেখান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

ঘটনাস্থল থেকে ধারণ করা ভিডিওচিত্রে সাগরের পানিতে বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ ভাসতে দেখা গেছে। উদ্ধারকারীরা পানিতে থাকা যাত্রীদের খুঁজে বের করার পাশাপাশি ডুবে যাওয়া নৌযানের আশপাশের বিস্তৃত এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন।

দুর্ঘটনার সময় সমুদ্রের পরিস্থিতিও ছিল প্রতিকূল। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে সাগর ছিল প্রচণ্ড উত্তাল। এর আগের দিন ওই এলাকায় একটি শক্তিশালী ঝড় আঘাত হেনেছিল। ঝড়ের প্রভাবে সাগরে বড় বড় ঢেউ সৃষ্টি হয়েছিল, যা নৌযানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

তবে উত্তাল সমুদ্রই দুর্ঘটনার মূল কারণ কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। উত্তর সাইপ্রাসের পরিবহনমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে।

এদিকে নিখোঁজ যাত্রীদের নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। উদ্ধারকারী দল সাগরের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। হেলিকপ্টার ও নৌযানের পাশাপাশি স্থানীয় বেসামরিক নৌযানও উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করছে।

কিরেনিয়া উত্তর সাইপ্রাসের একটি ঐতিহাসিক বন্দরনগরী। সেখান থেকে তুরস্কের দক্ষিণ উপকূলের তাসুজু বন্দরের মধ্যে নিয়মিত যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল করে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত ফেরিটিও ওই নৌপথে চলাচল করছিল।

দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরি সমন্বয় শুরু করেছে। উপকূলরক্ষী বাহিনী, উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসাকর্মী ও বেসামরিক নৌযানগুলো যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ নিখোঁজ যাত্রীদের নিয়ে। ১৫৯ জনকে শনাক্ত বা উদ্ধারের খবর পাওয়া গেলেও প্রায় ৯৯ জনের অবস্থান নিশ্চিত না হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্তের পাশাপাশি নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিকূল সমুদ্র পরিস্থিতির মধ্যেও উদ্ধারকাজ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

উগান্ডা থেকে নিউইয়র্ক, র‌্যাপার থেকে মেয়রঃ জোহরান মামদানি হয়ে উঠলেন শহরের নতুন নেতা

শুক্রাণু, ডিম্বাণু ছাড়াই মানব ভ্রুণ

কানাডার ২০২৫ সালের নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছেন ১৩ জন মুসলিম এমপি