মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রাক্তন প্রধান রবার্ট মুলারের মৃত্যু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তার বক্তব্যকে “ঘৃণ্য”, “অমানবিক” ও “রাষ্ট্রীয় মর্যাদার পরিপন্থী” বলে অভিহিত করেছেন বিভিন্ন মহল।
ভিয়েতনাম যুদ্ধের সম্মানিত সৈনিক ও দীর্ঘদিনের জনসেবক রবার্ট মুলার শুক্রবার ৮১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশের পরিবর্তে প্রেসিডেন্ট সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, তিনি “খুশি” যে মুলার মারা গেছেন। এই মন্তব্য দ্রুতই রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়।
প্রেসিডেন্টের নিজ দলীয় পরিমণ্ডল থেকেও তীব্র সমালোচনা উঠে আসে। রিপাবলিকান ঘরানার প্রবীণ নেতা মাইকেল স্টিল বলেন, এ ধরনের মন্তব্য একজন রাষ্ট্রনেতার জন্য লজ্জাজনক এবং নৈতিকতার পরিপন্থী। রাজনৈতিক কৌশলবিদ রিক উইলসন মুলারকে “জাতীয় বীর” আখ্যা দিয়ে প্রেসিডেন্টের আচরণকে নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেন।
ডেমোক্র্যাট নেতারাও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কংগ্রেস সদস্য ড্যান গোল্ডম্যান বলেন, একজন মৃত ব্যক্তির প্রতি এমন বিদ্বেষমূলক মন্তব্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থাকা কারো কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়। সিনেটর অ্যাডাম শিফ মন্তব্য করেন, এই আচরণ প্রেসিডেন্টের অযোগ্যতার প্রমাণ। একই সুরে কথা বলেন সিনেটর অ্যান্ডি কিম।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উপদেষ্টা ডেভিড অ্যাক্সেলরড বলেন, এই মন্তব্য যেমন নিন্দনীয়, তেমনি তা প্রেসিডেন্টের দীর্ঘদিনের আচরণেরই প্রতিফলন। সাবেক সামরিক কর্মকর্তা অ্যালেক্স ভিন্ডম্যান উল্লেখ করেন, একজন যুদ্ধাহত বীরকে নিয়ে এমন মন্তব্য গভীরভাবে অসম্মানজনক।
মুলারের সামরিক ও প্রশাসনিক অবদান নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধে তিনি বীরত্বের স্বীকৃতি হিসেবে একাধিক পদক অর্জন করেন। পরে তিনি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবে দীর্ঘ ১২ বছর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে তিনি প্রেসিডেন্টের নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে বহুল আলোচিত তদন্ত পরিচালনা করেন, যেখানে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
সমালোচকরা বলছেন, মৃত ব্যক্তিদের নিয়েও কটূক্তি করা প্রেসিডেন্টের নতুন কিছু নয়। এর আগেও সিনেটর জন ম্যাককেইন-এর মৃত্যুর পর তার প্রতি অসম্মানজনক মন্তব্য করেছিলেন ট্র্যাম্প।
এদিকে সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার অভিযোগ করেছেন, এমন বিতর্কিত মন্তব্যের মাধ্যমে জনগণের দৃষ্টি অন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “এই ধরনের নিষ্ঠুরতাই এখন রাজনৈতিক কৌশলে পরিণত হয়েছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপ্রধানের এমন বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক শালীনতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেনি, বরং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

