অস্ট্রেলিয়ার সিডনির ‘বাঙালিপাড়া’ হিসেবে পরিচিত লাকেম্বাকে ‘নো-গো জোন’ বা ‘নিষিদ্ধ এলাকা’ আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন কট্টর ডানপন্থী দল ওয়ান নেশনের নেত্রী সিনেটর পলিন হ্যানসন।
এক সাক্ষাৎকারে পলিন দাবি করেন, বিপুলসংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপস্থিতির কারণে সাধারণ অস্ট্রেলীয়রা সেখানে অনিরাপদ বোধ করেন।
পলিনের এই উসকানিমূলক মন্তব্য ও মুসলিমদের নিয়ে সংশয় প্রকাশকে ‘লজ্জাজনক’ ও ‘বিভেদ সৃষ্টিকারী’ বক্তব্য বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজসহ দেশটির শীর্ষ রাজনীতিকেরা।
পলিন হ্যানসনের দাবিকে ভিত্তিহীন প্রমাণ করে সিডনির পুলিশ ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, লাকেম্বা অন্যান্য অনেক শহরতলির তুলনায় বেশি নিরাপদ। বিশেষ করে রমজানের রাতের বাজারে প্রতিবছর ধর্ম–বর্ণনির্বিশেষে লাখ লাখ মানুষের সমাগম এই জনপদের সম্প্রীতিরই প্রতিফলন।
এ প্রসঙ্গে সিডনিপ্রবাসী বাংলাদেশি মাসুমা খান মৌ বলেন, ‘লাকেম্বা আমাদের কাছে একটুকরো বাংলাদেশ। এখানকার বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি আর মানুষের আন্তরিকতা আমাদের প্রবাসজীবনে এক বড় ভরসা। আমরা এখানে সব সময় নিরাপদ বোধ করি। যেকোনো বিদ্বেষের বিপরীতে আমাদের এই ঐক্যই প্রধান শক্তি।’
অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ধর্মীয় মেরুকরণ তৈরির লক্ষ্যেই পলিন হ্যানসন এমন বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তবে সিডনির নাগরিক সমাজ ও জনপ্রতিনিধিরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বহুত্ববাদী অস্ট্রেলিয়ায় ঘৃণা ও বিভেদের কোনো স্থান নেই।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কও পলিনের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি এই বক্তব্যকে ‘ভুল ও নিষ্ঠুর’ বলে বর্ণনা করে বলেন, এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য কোনো জনপ্রতিনিধির পদের জন্য মোটেও শোভনীয় নয়।
সূত্রঃ প্রথম আলো
এম.কে

