সিলেট নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছেছে। আধিপত্য বিস্তার, চুরি, ছিনতাই থেকে শুরু করে খুন—সব ধরনের অপরাধে জড়াচ্ছে বেপরোয়া কিশোররা। নগরজুড়ে দিনরাত প্রকাশ্যে আড্ডা, সিগারেট সেবন, রাস্তা দখল এবং অস্ত্রের মহড়া সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর উদ্যোগের অভাবে অপরাধীচক্রগুলো পুনরায় সক্রিয় হচ্ছে। গত ১৫ দিনে কিশোরদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারের ঘটনায় ২ জনের মৃত্যু, আহত অনেক এবং একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সচেতন নাগরিকরা মন্তব্য করছেন, সিলেটের কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে বাদামবাগিচা এলাকায় প্রতিপক্ষ গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র শাহ মাহমুদ হাসান তপু (১৫) নিহত হন। শুক্রবার বিকেল নয়াসড়ক এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে একজন গুরুতর আহত হন। এর আগে ১২ নভেম্বর বালুচরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আহত এক কিশোর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত জাহিদ হাসানসহ তিন কিশোরকে আটক করেছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মহানগরীর টিলাগড়, বালুচর, শাহী ঈদগাহ, ইলেকট্রিক সাপ্লাই, আম্বরখানা, সুবিদবাজার, মদিনা মার্কেট, জিন্দাবাজার, নবাবরোড, মাছুদিঘীরপার, লালাদিঘীর, কুয়ারপার, শেখঘাট, শিবগঞ্জ, উপশহর এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ এলাকায় কিশোর গ্যাং সক্রিয়। এদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও পারস্পরিক দ্বন্দ্বে প্রায়শই মারামারি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
লেখাপড়া ছেড়ে রাতে আড্ডা দেওয়া, প্রকাশ্যে সিগারেট খাওয়া, রাস্তা দখল, মহিলাদের টিজ করা—এগুলো এখন নিয়মিত দৃশ্য। এলাকার লোকজন অভিযোগ করেন, পুলিশ অভিযোগ পেলে সাময়িক অভিযান চালায়, কিন্তু কিশোররা পুনরায় সক্রিয় হয়। কেউ কেউ রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করেও এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, কিশোরদের অপরাধে জড়ানোর পেছনে পারিবারিক অনুপস্থিতি, বিদ্যালয়ের অনিয়মিত উপস্থিতি, মাদকের সহজলভ্যতা এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাব রয়েছে। নাগরিকরা মনে করেন, কিশোরদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, আইটি শিক্ষা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে হবে। অপরাধে জড়িতদের মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করা জরুরি।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার বলেন, “উভয় ঘটনায় পৃথক মামলা রুজু হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে ব্যাপক অভিযান চালানো হচ্ছে। শাহজালালের পূণ্যভূমিতে কোনো ধরনের কিশোর অপরাধীচক্রের অস্তিত্ব থাকতে দেওয়া হবে না। যারা শান্তি নষ্টের চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক তৃণমূল কর্মী অভিযোগ করেছেন, সিলেটে কিশোর গ্যাংকে শেল্টার দিচ্ছে একজন ৫ আগস্ট পরবর্তী প্রবাস ফেরত বিএনপি নেতা যিনি বিমানবন্দর থানার আহবায়ক কমিটিতেও আছেন। ছাত্রলীগের পরিচিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের ব্যবহার করে কিশোরদের নিয়ন্ত্রণে রাখছেন তিনি। এতে এলাকার নিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলার ওপর প্রভাব পড়ছে।
সূত্রঃ সিলেট ভিউ
এম.কে

