18.9 C
London
August 31, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশসিলেট

সিলেটে ভয়াবহ লোডশেডিংঃ ২৪ ঘণ্টায় ৮ ঘণ্টাও মিলছে না বিদ্যুৎ

তীব্র গরমের মধ্যে সিলেটজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগর ও গ্রামাঞ্চলের মানুষ। রোববার সকাল থেকে সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়ে। দিনের অর্ধেকেরও কম সময় বিদ্যুৎ পাওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেক গ্রাহক।

বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক, রোগী ও শিক্ষার্থীরা। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বাসাবাড়িতে যেমন ভোগান্তি বেড়েছে, তেমনি বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানেও নেমে এসেছে স্থবিরতা। মার্কেট, দোকানপাট ও শপিং মলে আসা ক্রেতা-বিক্রেতা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে চরম অসন্তোষ।

জিন্দাবাজারের বারুতখানা এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুস সবুর বলেন, ‘কারেন্ট নাই। ইলা একটা দেশ চলতে পারে?’ তার মতো নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে পরীক্ষার্থীরা প্রচণ্ড গরমের মধ্যে পড়াশোনা করতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যে উৎপাদন ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

সিলেটের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, উৎপাদন কম থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে উৎপাদন কমে যাওয়ার নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানাতে পারেননি।

তিনি জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এক থেকে দুই দিন সময় লাগতে পারে। তবে রোববার রাত থেকেই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

সিলেটের উৎপাদন কেন্দ্রগুলো সচল রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান প্রকৌশলী বলেন, বিষয়টি তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। ফলে এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারেননি।

নগরীর পাশাপাশি সিলেটের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলেও একই ধরনের বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকাগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হওয়ায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও সমস্যায় পড়েছেন।

গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারের একাধিক গ্রাহকের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে আট ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থী ও রোগীদের ওপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।

বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। রোগীদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারে সমস্যার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং এবং বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সিলেটে আন্দোলনেও নেমেছেন গ্রাহকদের একটি অংশ। গ্যাস-বিদ্যুৎ গ্রাহক কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির ব্যানারে রোববার বিকেল ৩টায় নগরীর কোর্ট পয়েন্টে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা গ্যাস ও বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ওপর ‘আর্থিক জুলুমের’ অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে চলমান লোডশেডিং এবং বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর যে কোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

গ্রাহকদের অভিযোগ, একদিকে বিদ্যুতের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে। তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সিলেটের বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা। বিশেষ করে তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং অব্যাহত থাকলে নগর ও গ্রামাঞ্চলে জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্রঃ সিলেটভিউ২৪.কম

এম.কে

আরো পড়ুন

মাদারীপুর থেকে এসে খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিলেন ১১০ বছরের বৃদ্ধ

ড. ইউনূসকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানাবেন সেনাপ্রধান

কারাগার থেকে আমার দুটি শীতের সোয়েটার হারিয়ে গেছেঃ পলক