19.4 C
London
September 20, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশসিলেট

সিলেটের সীমান্তে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ মিনাটিলাঃ হাতছানি দিচ্ছে পর্যটকদের

সারিসারি সবুজ পাহাড়, পাহাড়ের গায়ে জমে থাকা শ্রাবণের কালো মেঘ, ছোট্ট সবুজ মাঠ, স্বচ্ছন্দে বয়ে চলা নদী আর সীমান্তের নৈসর্গিক পরিবেশ—সব মিলিয়ে যেন ছবির মতো এক দৃশ্য। সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা মিনাটিলায় গেলে এমনই অপরূপ প্রকৃতির দেখা মেলে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওর কারণে জায়গাটি স্থানীয়দের কাছে ‘ভাইরাল মাঠ’ এবং পর্যটকদের কাছে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিতি পাচ্ছে।

সিলেট-তামাবিল আঞ্চলিক মহাসড়ক ধরে ৪ নম্বর বাংলাবাজার এলাকায় পৌঁছে ডান দিকে একটি কাঁচা রাস্তা ধরে প্রায় দেড় কিলোমিটার গেলেই মিনাটিলায় পৌঁছানো যায়। ঝিঙ্গাবাড়ি গ্রামের ভেতর দিয়ে ইট ও কাঁচা রাস্তা পেরিয়ে গ্রামের শেষ প্রান্তে গেলেই দেখা মেলে সীমান্তের শূন্যরেখার। সেখান থেকে কয়েক শ গজ দূরেই ভারতের পাহাড়ি অঞ্চল।

মিনাটিলার এক পাশে বয়ে গেছে রাংপানি নদ। নদটির ওপারে ভারতীয় অংশে সারিসারি পাহাড় সবুজে ঢাকা। পাহাড়ের পাদদেশে রয়েছে তারকাঁটার বেড়া। ভারত থেকে প্রবাহিত ছাগলখাউরি নদ বাংলাদেশে প্রবেশের পর রাংপানি নামে পরিচিত হয়েছে।

নদীতে বারকি নৌকায় বালু পরিবহনের দৃশ্যও দেখা যায়। ভারতীয় সীমান্তের শেষ প্রান্তে রয়েছে মিকিরবস্তি গ্রাম। এর পাশেই ছাগলখাউরি নদ পারাপারের জন্য রয়েছে একটি ঝুলন্ত সেতু।

বাংলাদেশের মিনাটিলা অংশে রয়েছে ছোট একটি সবুজ মাঠ। সেখানে দুটি ফুটবল বার স্থাপন করা হয়েছে। নদীর তীর ঘেঁষে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন গাছের চারা। মাঠের এক পাশে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী বসার বেঞ্চ। সেখানে স্থানীয় কিশোর-যুবকদের আড্ডা দিতে দেখা যায়।

প্রকৃতির এমন বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্যই ধীরে ধীরে মিনাটিলাকে দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে কেবল আশপাশের মানুষই এখানে আসতেন। এখন ছুটির দিনগুলোতে সিলেটসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ ছবি তুলতে ও প্রকৃতি উপভোগ করতে আসছেন।

স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক শাহ আবদুল জব্বার বলেন, মিনাটিলায় সৌন্দর্যের কোনো কমতি নেই। তবে পর্যটকদের জন্য এখনো প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা গড়ে ওঠেনি। বিশেষ করে ভালো রাস্তা, শৌচাগারসহ পর্যটনবান্ধব অবকাঠামোর অভাব রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হলে মিনাটিলা সিলেটের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। তবে সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানে পর্যটন উন্নয়নের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ ও বাস্তবতা রয়েছে।

এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায় জানান, মিনাটিলা এখনো পর্যটকদের কাছে খুব বেশি পরিচিত নয়। তারপরও অনেক মানুষ সেখানে বেড়াতে যাচ্ছেন। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে জায়গাটিকে কীভাবে আরও পর্যটকবান্ধব করা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিকেলের আলো যখন ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসে, পাহাড়ের গায়ে মেঘ আরও ঘন হয়ে নামে। রাংপানি নদ তখনো আপন ছন্দে বয়ে চলে। পাহাড়, নদী, মেঘ আর সবুজের এই অপূর্ব সমন্বয় মিনাটিলাকে সিলেটের সম্ভাবনাময় নতুন পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরছে।

পরিকল্পিত যোগাযোগব্যবস্থা, পর্যটকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এবং সীমান্তের নিরাপত্তা বজায় রেখে উন্নয়ন করা গেলে মিনাটিলা ভবিষ্যতে সিলেটের পর্যটন মানচিত্রে বিশেষ জায়গা করে নিতে পারে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

ধর্ষণ থেমে নেই সিলেটে

অনলাইন ডেস্ক

ড. ইউনূসের প্রেস সেক্রেটারি হচ্ছেন এএফপির শফিকুল আলম

কেরানীগঞ্জ থানায় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’, জনসমাগমের পর নেওয়া হচ্ছে জাতীয় চিড়িয়াখানায়