12.8 C
London
October 10, 2026
TV3 BANGLA
মুক্তমতযুক্তরাজ্য (UK)

স্কিল ওয়ার্কার বা ওয়ার্ক পারমিট ভিসাধারীরা নির্যাতনকারী নিয়োগকর্তার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন – নতুন ইমিগ্রেশন আইন

নাশীত রহমান || লন্ডন || ১০ অক্টোবর ২০২৬

 

আধুনিক দাসত্বের (মডার্ন স্লেভারি / Modern slavery) শিকার স্কিল ওয়ার্কার বা ওয়ার্ক পারমিট (Skilled Worker) ভিসাধারীরা এখন থেকে নির্যাতনকারী নিয়োগকর্তাকে ছেড়ে তাদের ভিসার অবশিষ্ট সময়ে যেকোনো নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করতে পারবেন। হোম অফিসর নতুন ইমিগ্রেশ রুল ও গাইডেন্স ৯ অক্টোবর ২০২৬ থেকে পরিবর্তন ও কার্যকর হচ্ছে।

আজ (৯ অক্টোবর) থেকে আধুনিক দাসত্বের শিকার স্কিল ওয়ার্কার বা ওয়ার্ক পারমিট ভিসাধারীরা নির্যাতনকারী নিয়োগকর্তাকে ছেড়ে গেলে আর তাদের অভিবাসন মর্যাদা হারানোর ঝুঁকিতে থাকবেন না। কোনো ব্যক্তিকে যখন আনুষ্ঠানিকভাবে আধুনিক দাসত্বের শিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে, তখন তিনি আর নির্দিষ্ট স্পনসরের সঙ্গে বাঁধা থাকবেন না এবং ভিসার মেয়াদ পর্যন্ত যেকোনো বৈধ কাজে যোগ দিতে পারবেন।

এতদিন পর্যন্ত নির্যাতনকারী স্পনসরকে ছেড়ে গেলে ভুক্তভোগীরা অভিবাসন মর্যাদা ও আয়ের উৎস—দুটোই হারানোর ঝুঁকিতে থাকতেন, কারণ স্কিল ওয়ার্কার বা ওয়ার্ক পারমিট ভিসাধারীদের জন্য পাবলিক ফান্ডের সুযোগ নেই। নতুন পরিবর্তন সেই কঠিন পরিস্থিতির অবসান ঘটাচ্ছে—যা নিয়ে ভুক্তভোগী ও আধুনিক দাসত্ববিরোধী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিল। এখন কর্মীরা নির্যাতনকারী নিয়োগকর্তাকে ছেড়ে যেতে পারবেন, দারিদ্র্যের ঝুঁকি ছাড়াই নিজেদের পুনর্গঠনের সুযোগ পাবেন।

 

এই পরিবর্তন স্কিল ওয়ার্কার বা ওয়ার্ক পারমিট রুটের বিভিন্ন কর্মীকে সহায়তা করবে, বিশেষ করে সেই সব কেয়ার কর্মী ও অন্যান্য পেশাজীবীদের, যারা সৎ উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন কিন্তু অসাধু নিয়োগকর্তার হাতে শোষণের শিকার হয়েছেন। একজন ভুক্তভোগী একটি এজেন্সিকে £২০,০০০ পরিশোধ করেছিলেন স্থায়ী ও পূর্ণকালীন কেয়ার কাজের আশায়। কিন্তু তার স্পনসর মাসে £৪০০ দাবি করত শুধু ভিসা সক্রিয় রাখার জন্য, অথচ কাজ দিত খুব কম বা একেবারেই না।

মাসের পর মাস তিনি ভাড়া ও পরিবারের খরচ চালাতে সংগ্রাম করেছেন, এবং বারবার ভিসা বাতিলের হুমকি সহ্য করেছেন। অবশেষে যখন কাজ পেলেন, তখন তাকে মাসে মাত্র £২০০ থেকে £৩০০ পর্যন্ত দেওয়া হতো—প্রতিশ্রুতির তুলনায় অতি সামান্য। আজ থেকে (৯ অক্টোবর) আধুনিক দাসত্বের শিকার এ ধরনের ভুক্তভোগীরা স্বীকৃতি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্যাতনকারী স্পনসরকে ছেড়ে বৈধ কাজে যোগ দিতে পারবেন এবং নতুনভাবে জীবন গড়ে তুলতে পারবেন।

মাইগ্রেশন ও সিটিজেনশিপ বিষয়ক মন্ত্রী জো হোয়াইট বলেন: “কেউই এমন শোষণের শিকার হওয়া উচিত নয়। আজকের পরিবর্তন ভুক্তভোগীদের নির্যাতনকারী কর্মস্থল ছেড়ে যাওয়ার স্বাধীনতা দেবে, তাদের জীবন পুনর্গঠনে সহায়তা করবে এবং শোষণের ট্রমা থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করবে। আমরা ভুক্তভোগীদের সহায়তা করছি, পাশাপাশি যারা এ ধরনের শোষণের জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। অসাধু স্পনসররা আইনের সর্বোচ্চ শাস্তির মুখোমুখি হবে।”

 

এই পদক্ষেপগুলো সরকারের আধুনিক দাসত্ব ও অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহারকারী অসাধু নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। ইমিগ্রেশন হোয়াইট পেপারের মাধ্যমে সরকার স্পনসর্ড কর্মীদের নিয়োগকর্তা পরিবর্তন সহজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যাতে নির্দিষ্ট স্পনসরের ওপর নির্ভরতা কমে এবং শোষণ প্রতিরোধে সুরক্ষা জোরদার হয়।

ভুক্তভোগীর পূর্ববর্তী নিয়োগকর্তা ছিল সেই ৬,৬০০-এর বেশি স্পনসরের মধ্যে, যাদের লাইসেন্স এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাতিল করেছে—যা আগের সরকারের এক দশকের তুলনায় বেশি। এর মধ্যে গত বছরের শেষ জুন পর্যন্ত ৪,৪০০-এর বেশি লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে—যা আগের বছরের তুলনায় ১৪০% বেশি এবং রেকর্ড সর্বোচ্চ। অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে স্পনসরদের পুলিশে পাঠানো হবে এবং তারা আইনের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হবে।

স্বাধীন অ্যান্টি-স্লেভারি কমিশনার এলিনর লায়ন্স বলেন:  “আমি এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানাই। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বারবার শুনেছি কীভাবে তারা নির্যাতনকারী কর্মস্থলে আটকে ছিলেন, কারণ কর্মস্থল ছেড়ে গেলে জীবিকা ও অভিবাসন মর্যাদা হারানোর ভয় ছিল। তাই আমি সবসময়ই স্পনসর্ড কর্মীদের জন্য আরও স্বাধীনতার দাবি জানিয়েছি, যাতে তারা শোষণকারী নিয়োগকর্তাকে ছেড়ে যেতে পারেন।আধুনিক দাসত্বের কোনো ভুক্তভোগীকে নির্যাতনকারী নিয়োগকর্তার সঙ্গে থাকতে বাধ্য করা উচিত নয়। বিকল্প কাজের সুযোগ ও আত্মনির্ভরতার পথ খুলে দেওয়া তাদের শোষণের চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে সহায়তা করবে।”

সালভেশন আর্মির ডেপুটি ডিরেক্টর (অ্যান্টি ট্রাফিকিং ও আধুনিক দাসত্ব) মেজর হিদার গ্রিনস্টেড বলেন: “আমরা জানি, আধুনিক দাসত্বের শিকারদের ভবিষ্যৎ শোষণ থেকে রক্ষা করার অন্যতম উপায় হলো আর্থিক স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়া। ভিসার অবশিষ্ট সময়ে অন্য স্পনসরের অধীনে কাজ করার সুযোগ তাদের নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে জীবন পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।“

আরো পড়ুন

লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে ঈদুল আজহার উৎসব, হাজারো মানুষের মিলনমেলা

যুক্তরাজ্যে সিরীয় আশ্রয় আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ আবার শুরু, সাতটি নতুন সরকারি প্রতিবেদন প্রকাশ

৩৭ হাজার ফুট উচ্চতায় নগ্ন হয়ে উদ্দাম নেচে গ্রেপ্তার ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের কর্মী