TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

স্টর্ম চন্দ্রার তাণ্ডবে যুক্তরাজ্যের সোমারসেটে ভয়াবহ বন্যাঃ ‘মেজর ইনসিডেন্ট’ ঘোষণা

স্টর্ম চন্দ্রার প্রভাবে সৃষ্ট টানা ভারী বৃষ্টি ও ব্যাপক বন্যা পরিস্থিতির কারণে ইংল্যান্ডের সোমারসেটে ‘মেজর ইনসিডেন্ট’ ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোমারসেট কাউন্সিল, এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি এবং জরুরি সেবা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

 

রাতভর প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে বিভিন্ন এলাকায় পানি দ্রুত বাড়ছে। আগামী দিনে আবহাওয়া কিছুটা শুষ্ক হওয়ার পূর্বাভাস থাকলেও, সোমারসেট লেভেলস ও মুরস এলাকায় বন্যার ঝুঁকি এখনও অত্যন্ত বেশি বলে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে।

কারণ, উজান থেকে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির পানি এখনও নিষ্কাশন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মুরল্যান্ডসহ আশপাশের এলাকায় নতুন করে বন্যা সতর্কতা জারি হওয়ার আশঙ্কা থাকায়, প্রয়োজন হলে দ্রুত অতিরিক্ত জনবল ও সম্পদ ব্যবহারের সুবিধার্থে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মেজর ইনসিডেন্ট ঘোষণা করা হয়। বাসিন্দাদের নিয়মিত সরকারি বন্যা সতর্কতা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গত রাতে সোমারসেটের কিছু এলাকায় ৫০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগে থেকেই পানিতে স্যাচুরেটেড মাটির কারণে নতুন করে বৃষ্টির পানি শোষণের সুযোগ নেই, ফলে পানি জমে ব্যাপক প্লাবনের সৃষ্টি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে মেট অফিস।

এখন পর্যন্ত ইলমিনস্টার, ওয়েস্ট ককার, টন্টন, মাডফোর্ড ও ওয়েস্ট ক্যামেল এলাকায় আনুমানিক ৫০টির মতো ঘরবাড়ি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, আগামী দিনগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়ে বাসিন্দাদের সহায়তা দিচ্ছেন।

সোমারসেট কাউন্সিলের নেতা বিল রিভান্স বলেন, মেজর ইনসিডেন্ট ঘোষণার মাধ্যমে চলমান সংকটে দ্রুত ও কার্যকরভাবে সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি জানান, বন্যার কারণে বহু কমিউনিটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের সহায়তাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

বন্যার ফলে জেলার বহু সড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে এবং কখনোই বন্যার পানির মধ্য দিয়ে গাড়ি চালাতে না যাওয়ার জন্য কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সড়ক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে বলে যাত্রার আগে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থাতেও। আজ প্রায় ৩০টি স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে স্কুল খোলা বা বন্ধ থাকার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘোষণার দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে।

বন্যার কারণে অনেক এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে পৌঁছাতে পারছেন না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যেসব বাসিন্দাকে নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়ি ছাড়তে হতে পারে, তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জরুরি সামগ্রী সঙ্গে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়ার কারণে মঙ্গলবার জেলার বিভিন্ন এলাকায় আবর্জনা, রিসাইক্লিং ও বাগানের বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সপ্তাহের শেষের দিকে, এমনকি শনিবার পর্যন্ত পুনরায় সংগ্রহের চেষ্টা করা হবে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় বাসিন্দাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে। জীবন ঝুঁকির মুখে পড়লে জরুরি সেবার জন্য ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

সূত্রঃ সামারসেট ডট গভ

এম.কে

আরো পড়ুন

ছোট নৌকার ঢল সামলাতে নেপিয়ার ব্যারাকের মেয়াদ বাড়াল যুক্তরাজ্য সরকার

যুক্তরাজ্যে খুচরা বিক্রি লকডাউনের চেয়েও কম

যুক্তরাজ্যের ভিসার জন্য বিদেশ থেকে আবেদন কমেছে ৪৩%