যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার কেইর স্টারমারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গাড়ি ও দুটি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত রোমানিয়ান নাগরিক স্ট্যানিস্লাভ কার্পিউককে দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে ব্রিটিশ হোম অফিস। ২৮ বছর বয়সী কার্পিউককে এ ঘটনায় দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল লন্ডনের ওল্ড বেইলি আদালত। সাজা ভোগের পর তাকে যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কার করা হয়।
আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, কার্পিউক ইউক্রেনীয় নাগরিক রোমান লাভরিনোভিচের (২২) সঙ্গে মিলে রাশিয়ান-ভাষী টেলিগ্রাম ব্যবহারকারী ‘এল মানি’র নির্দেশে অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলো ঘটান। হামলাগুলোর লক্ষ্য ছিল স্টারমারের ব্যবহৃত একটি গাড়ি এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সম্পত্তি।
২০২৫ সালের ৮ মে উত্তর লন্ডনের কেন্টিশ টাউনে স্টারমারের ব্যবহৃত একটি টয়োটা আরএভি৪ গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এর তিন দিন পর, ১১ মে ইসলিংটনে একটি ফ্ল্যাটের প্রবেশদ্বারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরদিন ১২ মে স্টারমারের নির্বাচনী এলাকার বাড়িতেও আগুন লাগানো হয়।
স্টারমার ডাউনিং স্ট্রিটে চলে যাওয়ার পর তার শ্যালিকা জুডিথ আলেকজান্ডার ওই বাড়িতে বসবাস করছিলেন। অগ্নিসংযোগের সময় তিনি বাড়িতে ধোঁয়া ও শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন।
আদালতে জানানো হয়, ‘এল মানি’ লাভরিনোভিচকে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে তিন হাজার পাউন্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। শর্ত ছিল, অগ্নিসংযোগের ভিডিও ধারণ করতে হবে এবং ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে আনতে হবে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্পিউক তার বন্ধুকে সহায়তা ও উৎসাহ দিয়েছিলেন। প্রতিশ্রুত অর্থ নগদে রূপান্তর করতেও তিনি সহায়তা করার কথা ছিল বলে আদালতে জানানো হয়।
যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের এক মুখপাত্র বলেন, ঘটনাটি একটি ঘৃণ্য হামলা। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দোষী সাব্যস্ত করা এবং কারাদণ্ড দেওয়ার মাধ্যমে এমন অপরাধে জড়িত হওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া অর্থের প্রলোভনে পড়ে যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ান, তাদের মনে রাখা উচিত—তাদের শনাক্ত করা হবে এবং কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। মুখপাত্র আরও জানান, কার্পিউককে এখন যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
হোম অফিসের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কৃত ব্যক্তিরা পুনরায় দেশটিতে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েন।
সূত্রঃ স্কাই নিউজ
এমকে

