17.8 C
London
May 19, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

স্টারমারের বদলে অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে চান লেবার সদস্যরা, নতুন নেতৃত্বে জয়ের আশা

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে। দলীয় সদস্যদের ওপর পরিচালিত নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পরিবর্তে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম নেতৃত্বে এলে আগামী সাধারণ নির্বাচনে জয় পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন অধিকাংশ সদস্য। জরিপে দলীয় সদস্যদের বড় অংশ স্টারমারের বদলে বার্নহ্যামকে ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

জরিপে আটজন সম্ভাব্য নেতার মধ্যে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সবচেয়ে বেশি সমর্থন পান। সরাসরি স্টারমার ও বার্নহ্যামের মধ্যে তুলনায়ও বার্নহ্যাম স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে—দলীয় সদস্যদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, স্টারমারের নেতৃত্বে আগামী নির্বাচন জেতা কঠিন হলেও বার্নহ্যামের নেতৃত্বে লেবার আবারও জয় পেতে পারে।

তবে একইসঙ্গে জরিপে উঠে এসেছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কিয়ার স্টারমারের কাজের মূল্যায়ন একেবারে নেতিবাচক নয়। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য বলেছেন, তিনি মোটামুটি ভালো অথবা খুব ভালো কাজ করেছেন। কিন্তু তারপরও মাত্র ২৮ শতাংশ সদস্য চান তিনি আগামী নির্বাচন পর্যন্ত দলের নেতৃত্বে থাকুন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি লেবারের ভেতরে বাড়তে থাকা অনাস্থা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত বহন করছে।

সম্প্রতি মেকারফিল্ড উপনির্বাচনকে ঘিরেও রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। অ্যান্ডি বার্নহ্যাম নিজের প্রচারণা ভিডিওতে এই উপনির্বাচনকে “আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন” বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি দাবি করেন, যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনতেই তিনি মাঠে নেমেছেন। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ সম্পর্ক ও এলাকার প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়ও তুলে ধরেন।

অন্যদিকে ডানপন্থী রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকে বার্নহ্যামের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে তাকে “সুযোগসন্ধানী” হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহ্যামের স্থানীয় পরিচয় ও দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কারণে সেই প্রচারণা তেমন কার্যকর হয়নি।

এদিকে ব্রিটিশ সম্প্রচার ব্যক্তিত্ব অ্যান্ড্রু নিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্নহ্যামের সমালোচনা করে দাবি করেন, তিনি যেভাবে এলাকাটিকে বঞ্চিত ও অবহেলিত হিসেবে তুলে ধরছেন, বাস্তবে সেখানে উন্নয়নের চিত্র স্পষ্ট।

এর জবাবে বার্নহ্যাম বলেন, লন্ডনের বাইরে সাধারণ মানুষের বাস্তব জীবন সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা নেই এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নীতির কারণেই বহু মানুষ এখনো কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

রাজনৈতিক এই টানাপোড়েনের মধ্যেই যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বেকারত্বের হার বেড়ে ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে মজুরি বৃদ্ধির গতি কমে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাব ব্রিটিশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও পড়তে শুরু করেছে।

অন্যদিকে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চ’-এর নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে দারিদ্র্যের মধ্যে থাকা শিশুদের প্রায় ৭২ শতাংশই কর্মজীবী পরিবারের সন্তান। অর্থাৎ পরিবারের সদস্যরা কাজ করলেও তারা দারিদ্র্য থেকে বের হতে পারছে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪-২৫ সালে প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার শিশু এমন পরিবারে বসবাস করছে যেখানে অন্তত একজন পূর্ণকালীন চাকরিজীবী রয়েছেন, তবুও তারা দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, শিশুসেবা ব্যয়, কম আয় ও শ্রমবাজারের নানা সীমাবদ্ধতার কারণে বহু পরিবার কঠোর পরিশ্রম করেও জীবনমান উন্নত করতে পারছে না। তাদের মতে, এটি ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয় বরং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিফলন। ফলে যুক্তরাজ্যে অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক বৈষম্য এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে আগামী নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

এক ঘণ্টার কম ব্যক্তিগত কাজের জন্য চাকুরিচ্যুতির বিরোধিতায় রায় প্রকাশ যুক্তরাজ্যে

বাইডেন-সুনাক বৈঠক, আর্থিক সহযোগিতার ঘোষণা

যুক্তরাজ্যে বাজেট ঘাটতি, অভিবাসন সংকট ও ট্রাম্পের সফর—স্টারমারের সামনে কঠিন পরীক্ষা