ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহু দেশ যখন অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে সীমান্তে দেয়াল তুলছে ও কঠোর নীতি গ্রহণ করছে, তখন স্পেন সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির সরকার বাংলাদেশিসহ প্রায় পাঁচ লাখ অনিয়মিত অভিবাসীকে বৈধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ইউরোপজুড়ে অভিবাসন নীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্পেন সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে যাদের ‘অদৃশ্য’ হিসেবে দেখা হতো—অর্থাৎ কাগজপত্রহীন অবস্থায় শ্রম দিয়ে যারা অর্থনীতি সচল রেখেছেন—তারাই বাস্তবে দেশের উন্নয়নের বড় চলনশক্তি। কৃষি, নির্মাণ, পরিচর্যা, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ শ্রমনির্ভর খাতে এই অভিবাসীদের অবদান উল্লেখযোগ্য বলে সরকার স্বীকার করেছে।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্পেন একদিকে শ্রমবাজারের ঘাটতি পূরণ করতে চায়, অন্যদিকে কর-ব্যবস্থা ও সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আরও বেশি মানুষকে আনতে চায়। বৈধতা পেলে অভিবাসীরা কাজের চুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো মৌলিক সুবিধা পাবে—যা তাদের জীবনমান উন্নত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় রাজস্বও বাড়াবে বলে মনে করছে মাদ্রিদ।
বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার বহু অভিবাসীর জন্য এই ঘোষণাকে বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা মানুষজনের জন্য এটি আইনি নিরাপত্তা ও মর্যাদার পথ খুলে দেবে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।
তবে সিদ্ধান্তটি সমালোচনাও এড়ায়নি। ইউরোপের কট্টর ডানপন্থী ও অভিবাসনবিরোধী গোষ্ঠীগুলো বলছে, এ ধরনের পদক্ষেপ নতুন করে অনিয়মিত অভিবাসনকে উৎসাহিত করতে পারে। স্পেন সরকার এ আশঙ্কা নাকচ করে জানায়, এটি এককালীন ও নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়া; পাশাপাশি সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও বৈধ অভিবাসন চ্যানেল শক্তিশালী করা হবে।
সব মিলিয়ে, স্পেনের এই উদ্যোগ ইউরোপীয় অভিবাসন নীতিতে মানবিক ও বাস্তববাদী বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে। কড়াকড়ির যুগে বৈধতার এই ঘোষণা অভিবাসন বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল—যেখানে ‘নিরাপত্তা’ নয়, ‘অবদান’কে কেন্দ্র করে নীতি নির্ধারণের বার্তা দিল মাদ্রিদ।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে

