11.9 C
London
March 27, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

১২ মাস অপেক্ষার পর কাজের অনুমতিঃ চিকিৎসক সংকটে নীতিমালা শিথিল যুক্তরাজ্যে

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা চিকিৎসকদের জন্য বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এনেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তর। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত এসব চিকিৎসক এখন জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা খাতে (এনএইচএস) কাজ করার সুযোগ পাবেন।

 

বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হওয়া এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে উচ্চ আদালতে করা একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি চ্যালেঞ্জ। দুইজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক—যাদের একজন রেডিওলজিস্ট এবং অন্যজন নিউরো-রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞ—এই নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। তারা প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও এনএইচএসে কাজ করতে পারছিলেন না।

আগের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো আশ্রয়প্রার্থী যদি ১২ মাসের বেশি সময় ধরে তাদের আবেদনের প্রাথমিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতেন, তবুও তারা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু পেশায় কাজ করতে পারতেন। এসব পেশা ‘ইমিগ্রেশন স্যালারি তালিকা’-এর আওতাভুক্ত ছিল, যেখানে চিকিৎসক বা নার্সদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশা অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ফলে বহু দক্ষ চিকিৎসক বাধ্য হয়ে কর্মহীন অবস্থায় সময় কাটাচ্ছিলেন।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘ সময় কর্মবিরতিতে থাকলে চিকিৎসকদের দক্ষতা ক্ষয় হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে, এনএইচএসের বিভিন্ন খাতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর তীব্র সংকট বিদ্যমান থাকায় এই নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছিল।

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, যারা ১২ মাস বা তার বেশি সময় ধরে আশ্রয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন, তারা এখন এনএইচএসের বিভিন্ন গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের পদে, যেমন চিকিৎসক ও নার্স হিসেবে কাজ করতে পারবেন।

একজন শিশু নিবিড় পরিচর্যা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানান, তিনি তিনবার হোম অফিসের কাছে চিকিৎসক হিসেবে কাজের অনুমতি চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রতিবারই তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি এতদিন কিছুই করতে পারিনি, যদিও আমার বিশেষজ্ঞ দক্ষতা রয়েছে।”

অন্যদিকে আরেকজন চিকিৎসক বলেন, “আমি এনএইচএসে অবদান রাখতে চাই। ১২ মাস অপেক্ষার পর আমি প্রায় ১০০টি কেয়ার ওয়ার্কার পদের জন্য আবেদন করেছিলাম, কিন্তু আমাকে অতিরিক্ত যোগ্য বলে সব আবেদনই বাতিল করা হয়েছে।”

আইনি লড়াইয়ে অংশ নেওয়া রেডিওলজিস্ট বর্তমানে একটি হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, “আবার হাসপাতালে কাজ করতে পারা যেন জীবনে ফিরে আসার মতো অনুভূতি।”

এই দুই চিকিৎসককে সহায়তা করেছে এনএইচএস-সমর্থিত একটি প্রশিক্ষণ সংস্থা, যা শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত শুধু মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, অর্থনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষ চিকিৎসকদের কর্মহীন রেখে দেওয়ার ফলে যেমন ব্যক্তিগত ক্ষতি হয়, তেমনি স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আইনজীবীদের মতে, এই নীতিমালা পরিবর্তন দেরিতে হলেও একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তারা মনে করেন, আশ্রয়প্রার্থীদের কাজের সুযোগ সীমিত রাখা ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর ছিল।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

সৎকারের নতুন পদ্ধতি আসছে ব্রিটেনে

রিফর্ম ইউকের ‘২৫ বিলিয়ন সাশ্রয়’ পরিকল্পনা ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ ডেকে আনবেঃ লেবার

যুক্তরাজ্যে জবরদস্তি শ্রমের সংজ্ঞায় হোম অফিসের সীমাবদ্ধতা অবৈধ ঘোষণা করল হাইকোর্ট