যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার শিশুদের চিকিৎসার জন্য নিজের পরিবারের কয়েক শতাব্দী পুরোনো ঐতিহাসিক প্রাসাদ বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইতালির ৭৫ বছর বয়সী ইউজেনিয়া গ্রানিতো। প্রাসাদটি বিক্রি করে পাওয়া অর্থের পুরোটা আন্তর্জাতিক মানবিক চিকিৎসা সংস্থা ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস’কে দান করতে চান তিনি। তার প্রত্যাশা, এই অর্থ দিয়ে গাজার শিশুদের জন্য একটি হাসপাতাল অথবা বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
দক্ষিণ ইতালির সালের্নো প্রদেশের রোক্কা চিলেন্তো এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক প্রাসাদটি ১৭ শতকে নির্মিত। পারিবারিক ঐতিহ্য ও স্মৃতিবিজড়িত এই সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ১৭৫১ সালে নির্মিত সেন্ট জোসেফের নামে একটি ছোট গির্জা বা চ্যাপেল। এ ছাড়া প্রাসাদটির সঙ্গে রয়েছে গাছপালায় ঘেরা একটি বড় বাগান।
নিজের দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পত্তি বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে গাজার শিশুদের দুর্দশা ও চিকিৎসাসংকটকে গুরুত্ব দিয়েছেন গ্রানিতো। তার ইচ্ছা, প্রাসাদ বিক্রির অর্থ যেন যুদ্ধাহত ও চিকিৎসাবঞ্চিত শিশুদের জীবন রক্ষায় কাজে লাগে।
তিনি বলেছেন, এই অর্থ দিয়ে এমন একটি হাসপাতাল বা চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চান, যেখানে গাজার শিশুরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাবে এবং তাদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিরপরাধ শিশুদের যেন আর এভাবে প্রাণ হারাতে না হয়, সেটিই তার এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
প্রাসাদটি বিক্রির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই দানের অর্থ হস্তান্তর করা হবে। অর্থাৎ, এখনো অর্থ দান বা হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি; সম্পত্তি বিক্রির পর প্রাপ্ত অর্থের মাধ্যমে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গ্রানিতোর এই সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত সম্পদকে যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের চিকিৎসা ও জীবন রক্ষার কাজে ব্যবহারের একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগের দিকটি সামনে এসেছে। নিজের পরিবারের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তি বিক্রি করে গাজার শিশুদের পাশে দাঁড়াতে চান তিনি।
সূত্রঃ আনসা (ANSA)\ ভ্যানিটি ফেয়ার ইতালিয়া
এমকে

