দীর্ঘ দুই দশক পর সরকার গঠনের পথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় ও নীতিনির্ধারণী সূত্রের দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বেই নতুন সরকার গঠন প্রায় চূড়ান্ত। আগামীকাল মঙ্গলবার নতুন সরকারের শপথের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সময়ের প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে প্রথম পর্যায়ে একটি ছোট পরিসরের মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। নতুন ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সমন্বয়ে কার্যকর ও গতিশীল প্রশাসনিক কাঠামো দাঁড় করানোর পরিকল্পনা রয়েছে দলের।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র বলছে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পরপরই মন্ত্রিসভার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে সীমিত সংখ্যক মন্ত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও পর্যায়ক্রমে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হচ্ছে।
আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় রয়েছেন—খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, জাকারিয়া তাহের (সুমন), খলিলুর রহমান, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আমিনুল হক, ফরহাদ হোসেন আজাদ, হাজি আমিনুর রশীদ ইয়াছিন, মীর শাহে আলম, শরীফুল আলম, ফজলুর রহমান, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আন্দালিভ রহমান পার্থ, মাহদী আমিন, সাঈদ আল নোমান এবং ইশরাক হোসেন। তবে চূড়ান্ত তালিকা শপথ গ্রহণের পর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এর মধ্য দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর পর তার বড় ছেলে হিসেবে তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন—যা বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দলের ভেতরে এখন সরকার পরিচালনার প্রস্তুতি, দপ্তর বণ্টন এবং প্রশাসনিক রূপরেখা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। ছোট পরিসরের মন্ত্রিসভা দিয়ে শুরু করে দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রশাসনিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করাই হবে নতুন সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য—এমনটাই জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সূত্রঃ বিবিসি বাংলা
এম.কে

