21.6 C
London
September 29, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচঃ বিল ৫০৬ কোটি টাকা! চারজনকে শোকজ

মাগুরায় এক আবাসিক গ্রাহকের এক মাসের বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। অথচ ওই মাসে গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবহার ছিল মাত্র ২৩৫ ইউনিট। অস্বাভাবিক এই বিল নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনায় দায়িত্বে থাকা চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের এই বিল ইস্যু করা হয়।

বিলের নথি অনুযায়ী, আবাসিক শ্রেণির ওই সংযোগে মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ২৩৫ ইউনিট। তবে বিলের ডিমান্ড চার্জ হিসেবে দেখানো হয়েছে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট যোগ করা হয়। সব মিলিয়ে মোট বিল দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ করা না হলে বিলম্ব মাশুলসহ মোট অর্থের পরিমাণ ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

তবে স্বাভাবিক ট্যারিফ অনুযায়ী, ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য ওই গ্রাহকের প্রকৃত বিল হওয়ার কথা ছিল ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ সেই অঙ্ক সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫৬ টাকা হওয়ার কথা।

গত ১০ সেপ্টেম্বর বিলটি ইস্যু করা হয় এবং ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা পরিশোধের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল।

অস্বাভাবিক বিল হাতে পাওয়ার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেন গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুন। তিনি বলেন, এটি শুধু অস্বাভাবিক নয়, ‘আজগুবি’ বিলও। বিদ্যুৎ বিভাগের এমন ভুলের কারণে গ্রাহকদের দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তি বাড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিষয়টি নিয়ে শালিখা উপজেলার চুকিনগরে অবস্থিত মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসে যোগাযোগ করা হলে বিলের অস্বাভাবিকতার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম।

তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, গ্রাহকের মিটার পরিবর্তনের পর যান্ত্রিক ও অসাবধানতাবশত মিটারের সিল নম্বরের অঙ্কগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে যায়। এর ফলেই সফটওয়্যারে অস্বাভাবিক বড় অঙ্কের বিল তৈরি হয়।

বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর ভুল সংশোধন করে সংশোধিত বিল গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানান ডিজিএম।

এদিকে বিল তৈরির প্রক্রিয়ায় এমন ভুলের ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিতুল ইসলাম জানান, সংশ্লিষ্ট জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. রেজাউল করিম, বিলিং সহকারী সোমা রানীসহ মোট চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ভুলের কারণ নির্ধারণ এবং দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সূত্রঃ ইত্তেফাক

এমকে

আরো পড়ুন

ভারত ও আ.লীগের রাজনীতি, নিয়ে সোহেল তাজের, বিস্ফোরক মন্তব্য

ঠাকুরগাঁওয়ে ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানে ভাঙচুর-মারামারি

বাংলাদেশ ইস্যুঃ ভারতের মিডিয়ায় চলছে ভয়াবহ প্রোপাগান্ডা