ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো চুক্তি করতে তার ওপর কোনো ধরনের সময়ের চাপ নেই এবং তার হাতে “পৃথিবীর সব সময়” রয়েছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, একটি নির্দিষ্ট আইনি সময়সীমা দ্রুত ঘনিয়ে আসছে, যা তার সিদ্ধান্তকে সীমাবদ্ধ করে তুলতে পারে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, তিনি এই পরিস্থিতিতে “সবচেয়ে কম চাপে থাকা ব্যক্তি” এবং যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইরানই সময়ের চাপে রয়েছে। তার ভাষায়, “আমার কাছে পৃথিবীর সব সময় আছে, কিন্তু ইরানের নেই—সময়ের ঘড়ি দ্রুত চলছে।”
একই বার্তায় তিনি ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেন। তার দাবি অনুযায়ী, ইরানের নৌবাহিনী সমুদ্রে ধ্বংস হয়ে গেছে, বিমানবাহিনী কার্যত ভেঙে পড়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং দেশটির নেতৃত্বেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ সম্পূর্ণ শক্তিশালী এবং পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরও কঠোর হতে পারে।
তবে এই কঠোর অবস্থানের মধ্যেও ট্রাম্প স্পষ্ট করে দেন, কোনো চুক্তি তখনই হবে যখন তা যুক্তরাষ্ট্র, তার মিত্র দেশগুলো এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য উপযুক্ত হবে।
এদিকে, ট্রাম্পের এই আত্মবিশ্বাসী বক্তব্যের বিপরীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলো ১৯৭৩ সালের যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত আইন। এই আইনের অধীনে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত যুদ্ধ পরিচালনা করতে পারেন।
২ মার্চ কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার পর থেকে এই সময় গণনা শুরু হয়েছে। সেই হিসেবে, ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হবে ১ মে। অর্থাৎ, এই সময়ের মধ্যে তাকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে অথবা সামরিক কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্যে একদিকে কঠোর সামরিক অবস্থান দেখা গেলেও, অন্যদিকে কূটনৈতিক দরকষাকষির সুযোগও খোলা রাখা হয়েছে। তিনি ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখতে চাইছেন, একই সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তির পথও পুরোপুরি বন্ধ করছেন না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পষ্ট যে, প্রকাশ্যে সময় নিয়ে নির্ভার অবস্থান দেখালেও বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন একটি সংকীর্ণ সময়সীমার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারে।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

