যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে কর্মী নিয়োগের দায়ে ২০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯৩ লাখ পাউন্ড জরিমানা করা হলেও সেগুলো বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য স্পনসর লাইসেন্স নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জিবি নিউজের এক অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জিবি নিউজ ও ক্যামব্রিজ সার্কাস রিসার্চের যৌথ অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, সরকারি নথি অনুযায়ী, মোট ২০৮টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করার পরও সেগুলো হোম অফিসের সরকারি স্পনসর তালিকায় রয়েছে। জরিমানার পর থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো ধারাবাহিকভাবে ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে কেয়ার বা পরিচর্যা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ফাস্টফুডের দোকান, পেট্রল স্টেশন, পাড়ার ছোট দোকান, বার, ক্যাফে এবং একটি গাড়ি বিক্রির প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান অবৈধ কর্মী নিয়োগের জন্য জরিমানা দেওয়ার পরও কীভাবে বিদেশি কর্মী আনার অনুমতি ধরে রেখেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
হোম অফিসের নির্দেশিকা অনুযায়ী, অবৈধ কর্মী নিয়োগের দায়ে কোনো প্রতিষ্ঠান দুই বা তার বেশি বার জরিমানা পেলে নির্দিষ্ট শর্তে তার স্পনসর লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে অন্তত একটি জরিমানা সর্বোচ্চ নির্ধারিত অঙ্কের হতে হয়।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান স্পনসর হিসেবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সাধারণত তার লাইসেন্স বাতিল করা হবে। এসব দায়িত্বের মধ্যে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন আইন এবং বিদেশি কর্মী ও অস্থায়ী কর্মীদের স্পনসরসংক্রান্ত নির্দেশিকা মেনে চলাও রয়েছে।
এ ছাড়া, অবৈধ কর্মী নিয়োগের দায়ে কোনো প্রতিষ্ঠান দুই বা তার বেশি বার জরিমানা পেলে সাধারণত লাইসেন্স বাতিলের কথা বলা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের স্পনসর করা কর্মীর যুক্তরাজ্যে কাজ করার বৈধ অনুমতি না থাকলে, অথবা অনুমতির বাইরে অন্য কাজ করলে, সেই ক্ষেত্রেও লাইসেন্স বাতিলের বিধান রয়েছে।
তবে অনুসন্ধানে উঠে আসা ২০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনগুলো হোম অফিসের নির্দেশিকায় উল্লেখ করা লাইসেন্স বাতিলের শর্ত পূরণ করেছে, তা স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে জিবি নিউজ।
বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কনজারভেটিভ পার্টির সংসদ সদস্য ও ছায়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ক্রিস ফিলিপ। তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের অবৈধ কর্মী নিয়োগ করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। আইন ভেঙে কম খরচে শ্রমিক নিয়োগের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ফৌজদারি শাস্তি থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফিলিপ আরও অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ অবৈধ কর্মী নিয়োগের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে এবং কম দক্ষ বিদেশি কর্মীর অভিবাসন সীমিত করতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। তিনি বলেন, কনজারভেটিভ পার্টি ক্ষমতায় গেলে বিদেশি কর্মী আগমনে নিম্নসীমার একটি নির্দিষ্ট কোটা নির্ধারণসহ এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।
সেন্টার ফর মাইগ্রেশন কন্ট্রোলের রব বেটস বলেন, বিদেশি কর্মী নিয়োগের স্পনসর তালিকায় বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা রয়েছে। তার অভিযোগ, কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠান অভিবাসন আইন যথাযথভাবে না মেনেই এই ব্যবস্থার সুযোগ নিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পুরো ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোম অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে জিবি নিউজ। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত হোম অফিসের কোনো বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এমকে

