27.6 C
London
August 9, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

অভিবাসন বিরোধে স্পেন-ইতালি মুখোমুখিঃ শেনজেনের অবাধ যাতায়াতে সাময়িক কড়াকড়ি

অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র বিরোধের জেরে স্পেন ও ইতালি নিজেদের মধ্যে শেনজেনভুক্ত অবাধ যাতায়াতের ওপর সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর ফলে ইউরোপের অভ্যন্তরীণ সীমান্তবিহীন ভ্রমণব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ দুই দেশের মধ্যে যাতায়াতে নতুন করে পাসপোর্ট ও পরিচয় যাচাই শুরু হয়েছে।

শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ইতালি থেকে স্পেনে আকাশ ও সমুদ্রপথে প্রবেশকারী যাত্রীদের ওপর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ চালু করেছে মাদ্রিদ। ইতালি থেকে আসা যাত্রীদের পাসপোর্ট, জাতীয়তা ও ভিসা যাচাই করা হচ্ছে। বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে এই ব্যবস্থা ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকার কথা রয়েছে।

এর আগে ইতালিও স্পেন থেকে আসা যাত্রীদের ওপর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ চালু করে। রোমের দাবি, মরক্কো থেকে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় সম্প্রতি প্রবেশ করা অভিবাসীরা যাতে ইতালিসহ শেনজেন এলাকার অন্যান্য দেশে পৌঁছাতে না পারে, সে কারণেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে ইতালির এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে স্পেন। মাদ্রিদের দাবি, সেউতায় প্রবেশ করা অভিবাসীদের ওই ভূখণ্ড থেকে শেনজেন এলাকার মূল অংশে পৌঁছানোর সরাসরি কোনো বাস্তব পথ নেই। ফলে ইতালির সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের পেছনে যে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, সেটিকে স্পেন ‘অযৌক্তিক’ বলে মনে করছে।

বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সেউতায় সাম্প্রতিক অভিবাসী প্রবেশের ঘটনা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মরক্কো থেকে প্রায় ৭৮ হাজার মানুষ সেউতায় প্রবেশ করেছিল। তাদের অধিকাংশকে কয়েক দিনের মধ্যে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হলেও প্রায় ১ হাজার ৪০০ অপ্রাপ্তবয়স্ক এখনো সেখানে অবস্থান করছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই ব্যাপক প্রবেশের ঘটনায় প্রায় ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনার পর অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্পেনের সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মতপার্থক্যও সামনে এসেছে। স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক রায়ে সমুদ্রে আটক করা অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোতে ফেরত পাঠানোর ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মরক্কো এই রায়ের সমালোচনা করে বলেছে, এর ফলে সীমান্তে অভিবাসন ঠেকানোর ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ দুর্বল হয়ে পড়েছে।

স্পেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, অপরাধী চক্রগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষকে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছে। এর পাশাপাশি অভিবাসী পাচারকারী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও অভিযান জোরদার করেছে স্পেন। দেশটির পুলিশ সম্প্রতি ৭৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র ও অভিবাসী পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে স্পেন ও ইতালির মধ্যে বিমান ও সমুদ্রপথে যাতায়াতেও ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিমানবন্দরে দীর্ঘ সারি এবং যাত্রীদের অতিরিক্ত সময় অপেক্ষার খবর পাওয়া গেছে। যদিও ইতালি দাবি করেছে, নতুন ব্যবস্থা ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের জন্য সর্বোচ্চ স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখার উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছে।

ইতালির অবস্থানকে ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক সমর্থন করেছে। অন্যদিকে চেক প্রজাতন্ত্র স্পেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করার মতো কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। ফলে সেউতার অভিবাসন সংকট এখন শুধু স্পেন ও ইতালির দ্বিপক্ষীয় বিরোধে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ইউরোপের অভিবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং শেনজেন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

শেনজেন ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য হলো অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ সীমান্তে সাধারণত পাসপোর্ট পরীক্ষা ছাড়াই মানুষের অবাধ চলাচল। সেই ব্যবস্থার মধ্যেই স্পেন ও ইতালির পাল্টাপাল্টি সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ইউরোপের অভিবাসন সংকট কতটা গভীর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে, তা নতুন করে সামনে এনেছে।

সূত্রঃ দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

এম.কে

আরো পড়ুন

ইরানের সঙ্গে চুক্তি হোক বা না হোক—“আমরাই জিতব”: ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক

এবার সাংবাদিকদের অর্থ আয়ের রাস্তা দেখালেন ইলন মাস্ক

জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সিগেরু ইশিবা