যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আটলান্টিক অথবা প্রশান্ত মহাসাগরের যেকোনো একটির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। বিকল্প হিসেবে ‘আমেরিকা মহাদেশগুলোর মহাসাগর’ নামটিও উল্লেখ করেছেন তিনি। দায়িত্ব ছাড়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের নামে একটি মহাসাগর ও একটি বড় নদীর নামকরণ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
ফার্স্টপোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার (১০ অক্টোবর) টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ক্লার্কসভিলে এক নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। ট্রাম্প বলেন, “আমাদের উপসাগর আছে। আমাদের একটি সুন্দর হ্রদ আছে। এখন একজন বলেছেন, আমাদের একটি নদীও দরকার। আমাদের একটি মহাসাগরও দরকার।”
এ সময় আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের যেকোনো একটির নাম পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তার প্রস্তাবে সমাবেশে উপস্থিত কয়েকজন হাসেন ও হাততালি দেন।
এর আগে গত বছর ট্রাম্প মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ রাখেন। এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মেক্সিকোর সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। নতুন নাম ব্যবহার করতে অস্বীকৃতি জানানোয় সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সঙ্গেও তার বিরোধ দেখা দেয়।
চলতি বছরের আগস্টে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও কানাডার মাঝখানে অবস্থিত অন্টারিও হ্রদের নামও ‘আমেরিকা হ্রদ’ রাখেন ট্রাম্প। বাণিজ্য ও শুল্ক নিয়ে কানাডার নেতাদের সঙ্গে বিরোধের মধ্যেই এই নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে ট্রাম্প জলভাগসহ বিভিন্ন ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে পারেন। অনলাইনে মানচিত্র সরবরাহকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকেই তার দেওয়া নতুন নাম গ্রহণ করেছে।
তবে শনিবারের সমাবেশে ট্রাম্প হাডসন নদীর নাম পরিবর্তন না করার কথা জানান। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এই নদীর নামকরণ করা হয়েছে অভিযাত্রী হেনরি হাডসনের নামে। ট্রাম্প বলেন, “অনেক আগে লোকটা ওই জিনিসটা স্থাপনের কাজ ভালোভাবেই করেছিল।”
মিসিসিপি নদীর নামও পরিবর্তন করবেন না বলে জানান তিনি। টেনেসি অঙ্গরাজ্যের পশ্চিম সীমানা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই নদী সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, তিনি মিসিসিপিকে ভালোবাসেন, কারণ ওই অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনে তার দল বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছিল।
এ ছাড়া গত মাসে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের নাম পরিবর্তন করে ‘নিউ আমেরিকা’ রাখার প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। তবে এ ধরনের পরিবর্তনের জন্য অঙ্গরাজ্যটির সরকার ও কংগ্রেসের পদক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি নিউ মেক্সিকোর বাসিন্দাদের ওপর নির্ভর করবে এবং তিনি এ নিয়ে চাপ সৃষ্টি করবেন না। তবে অনেকেই প্রস্তাবটি পছন্দ করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সূত্রঃ ফার্স্টপোস্ট ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
এমকে

