পূর্ব লন্ডনের উডফোর্ড গ্রিনে অবস্থিত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অ্যাভন হাউস প্রিপারেটরি স্কুল আর চালু হচ্ছে না। দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ, বেসরকারি স্কুলের ওপর মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আরোপ এবং জাতীয় বীমা ও পেনশন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইপিং ফরেস্টের পাশে অবস্থিত স্কুলটি ইতোমধ্যে কার্যক্রম বন্ধ করেছে। ফলে আগামী সেপ্টেম্বরের নতুন শিক্ষাবর্ষে আর স্কুলটি খুলবে না। নার্সারি থেকে ষষ্ঠ বর্ষ পর্যন্ত শিশুদের পড়ানো এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বছরে সর্বোচ্চ প্রায় ১৭ হাজার ৮৯৫ পাউন্ড পর্যন্ত ফি নেওয়া হতো।
চলতি মাসের শুরুতে অভিভাবকদের পাঠানো এক ই-মেইলে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, আর্থিক পরিস্থিতির কারণে সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। স্কুলটির ভবিষ্যৎ টেকসই করার জন্য বিনিয়োগ, অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত হওয়া এবং বিক্রিসহ বিভিন্ন সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর্থিকভাবে কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।
পরবর্তী এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানায়, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে তারা স্কুলটির তাৎক্ষণিক বন্ধের ঘোষণা দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও ব্যক্তিগত বিকাশকে শিক্ষাজীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে কাজ করেছে। প্রতিটি শিশুর সাফল্যকে উদযাপন ও তাদের সম্ভাবনা বিকাশে সহযোগিতা করাই ছিল স্কুলটির অন্যতম মূলনীতি।
স্কুল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঠেকাতে বেশ কিছু বিকল্প নিয়ে কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, স্কুলের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার মতো বাস্তবসম্মত ও আর্থিকভাবে টেকসই কোনো পথ অবশিষ্ট নেই।
অ্যাভন হাউসের আর্থিক সংকটের পেছনে বেসরকারি স্কুলের ফিতে ভ্যাট চালুর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে যুক্তরাজ্যের বেসরকারি স্কুলের ফিতে ২০ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর হওয়ার পর খরচের চাপ আরও বেড়েছে। এর পাশাপাশি জাতীয় বীমা ও পেনশন ব্যয় বৃদ্ধিও প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক বোঝা বাড়িয়েছে।
অ্যাভন হাউসের ইতিহাস এক শতাব্দীরও বেশি পুরোনো। প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়েছিল ‘এসেক্স হাউস’ নামে। ১৯৫০-এর দশকের শুরুতে এর নাম পরিবর্তন করে অ্যাভন হাউস স্কুল রাখা হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৫ সালে বর্তমান হাই রোডের অবস্থানে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপিত হয় এবং তখন এর নাম ছিল এসেক্স হাউস প্রিপারেটরি স্কুল।
স্কুলটির বর্তমান কাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শিলা ফেরারির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ১৯৭০ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানটি কিনে নেন এবং ৩ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের জন্য পারিবারিক পরিবেশে শিক্ষাদানের একটি স্বতন্ত্র ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।
২০২৬ সালে স্কুলটির ফাউন্ডেশন ওয়ান বা নার্সারি পর্যায়ের বার্ষিক ফি ছিল প্রায় ১৩ হাজার ৭০০ পাউন্ড। অন্যদিকে পঞ্চম ও ষষ্ঠ বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য বার্ষিক ফি ছিল প্রায় ১৭ হাজার থেকে ১৭ হাজার ৮৯৫ পাউন্ডের মধ্যে। ফলে তুলনামূলকভাবে উচ্চ ফি নেওয়া হলেও ক্রমবর্ধমান পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির আয় সামঞ্জস্য রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
অ্যাভন হাউস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্কুলটির সাবেক বহু শিক্ষার্থী পরবর্তী জীবনে সাফল্য অর্জন করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘ যাত্রায় শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারগুলোর অবদানও স্মরণ করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্কুল বন্ধের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে বর্তমানে সেখানে পড়াশোনা করা শিশু ও তাদের পরিবারগুলোর ওপর। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে তাদের স্থানীয় অন্যান্য স্কুলে ভর্তি ও নতুন শিক্ষাজীবনের প্রস্তুতি নিতে হবে।
বিবৃতিতে অ্যাভন হাউসের পক্ষ থেকে বিদায়ী শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে স্কুলটির সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক, কর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।
অ্যাভন হাউস কর্তৃপক্ষের কাছে স্কুল বন্ধের বিষয়ে আরও বিস্তারিত মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয়েছে।
সূত্রঃ মাই লন্ডন
এম.কে

