13.3 C
London
May 20, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইংল্যান্ডে ‘সরলীকৃত রিসাইক্লিং’ চালুঃ ডাস্টবিনে আর যাবে না ৩৭ ধরনের দৈনন্দিন বর্জ্য

ইংল্যান্ড জুড়ে গৃহস্থালির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। গত ৩১ মার্চ থেকে কার্যকর হওয়া ‘সিম্পলার রিসাইক্লিং’ (সরলীকৃত পুনর্ব্যবহার) নিয়ম অনুযায়ী, এখন আর সব ধরনের বর্জ্য রিসাইক্লিং বিনে ফেলা যাবে না। পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক বিভাগ (ডিফ্রা) এক নির্দেশনায় কমপক্ষে ৩৭ ধরনের দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসকে রিসাইক্লিং সংগ্রহের আওতার বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় সব কাউন্সিলকে চারটি পৃথক বিন ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: খাদ্য ও বাগানের বর্জ্য, কাগজ ও কার্ড, শুকনো পুনর্ব্যবহারযোগ্য (কাচ, ধাতু, প্লাস্টিক) এবং অপুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য। এর মাধ্যমে দেশব্যাপী রিসাইক্লিং প্রক্রিয়ায় সঙ্গতি আনা এবং দূষণ কমানোই মূল লক্ষ্য।

সার্কুলারে ইকোনমি মন্ত্রী মেরি ক্রেগ বলেছেন, “আমরা বিন সংগ্রহের ‘পোস্টকোড লটারি’র অবসান ঘটাচ্ছি। যেখানেই থাকুন, রিসাইক্লিং সহজ হচ্ছে। এতে কার্বন নিঃসরণ কমবে, রাস্তা-ঘাট পরিচ্ছন্ন হবে এবং সমাজে গর্ব ফিরে আসবে।”

কোন কোন জিনিস বিনে ফেলা যাবে না?

নতুন নির্দেশনায় কাচ, ধাতু, প্লাস্টিক, কাগজ, খাদ্য ও বাগানের বর্জ্য—প্রত্যেক বিভাগে নিষিদ্ধ আইটেমের বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কিছু নিষিদ্ধ বর্জ্যের মধ্যে রয়েছে:

· কাচের বিন থেকে বাইরেঃ মোমবাতি, পান করার গ্লাস, পাইরেক্সের মতো কাচের রান্নার পাত্র, আলোর বাল্ব, আয়না, ফুলদানি, জানালার কাচ এবং সিরামিক (থালা-বাসন, মাটির পাত্র)।

· ধাতু বিনে নয়ঃ লেমিনেটেড ফয়েল (পোষা প্রাণীর খাবার/কফির পাউচ), ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক জিনিস, কাটলারি, কেটলি, ইস্ত্রি, এবং পেইন্ট বা ইঞ্জিন অয়েল সংরক্ষণের পাত্র।

· প্লাস্টিক বিনে নিষিদ্ধঃ ‘কম্পোস্টেবল’ বা ‘বায়োডিগ্রেডেবল’ লেবেলযুক্ত যেকোনো প্লাস্টিক, বাগানের আসবাব, বড় খেলনা, পলিস্টাইরিন (প্যাকিং বিডস) ও পিভিসি প্যাকেজিং।

· কাগজ-কার্ডে নয়ঃ টেট্রা প্যাক (এগুলো প্লাস্টিক বিভাগে যাবে), ন্যাপি, পিরিয়ড প্রোডাক্ট, টিস্যু, টয়লেট পেপার ও ভেজা ওয়াইপ।

· খাবার ও বাগানের বর্জ্য: কম্পোস্টেবল প্লাস্টিক, চা-ব্যাগ, কফি গ্রাউন্ডস, পশুর বিছানা, প্লাস্টিকের টব, বালি, পাথর, ইট ও নির্দিষ্ট আকারের চেয়ে বড় ডালপালা।

নতুন নিয়ম সত্ত্বেও বিভ্রান্তি কাটছে না। রিসাইক্লিং এক্সপার্ট.কো.ইউকের জন রোলিনসন বলেন, “এখনো মানুষ ‘উইশ-সাইক্লিং’ করছেন— বিনে জিনিস ফেলছেন, নিশ্চিত জ্ঞান থেকে নয়। গ্রিজি পিৎজার বক্স বা সস লেগে থাকা পাত্র পুরো ব্যাচ নষ্ট করে দিতে পারে।

সহজ পরামর্শঃ খাবারের বর্জ্য, ন্যাপি, টিস্যু, ভেপ, ব্যাটারি, নরম প্লাস্টিক ও পলিস্টাইরিন বিনের বাইরে রাখুন। আর সন্দেহ থাকলে, ধুয়ে নিন বা ফেলবেন না।”

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, নিয়ম সরল করলেও প্রতিটি কাউন্সিলের বিনের আইটেম ভিন্ন হতে পারে। তাই স্থানীয় কাউন্সিলের তালিকা দেখা জরুরি, নইলে দূষণের কারণে প্রকৃত পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণও প্রত্যাখ্যাত হতে পারে।

সরকারের আশা, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে পুনর্ব্যবহার প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হবে, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, গণসচেতনতা ও যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়া এই জটিল তালিকা মানা সাধারণ নাগরিকের পক্ষে কঠিন।

ডিফ্রা জানিয়েছে, তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করছে, যাতে পুনর্ব্যবহৃত উপকরণে তৈরি পণ্যের পরিমাণ বাড়ে এবং নাগরিকদের এই বিষয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

নিপীড়নের অভিযোগ: পদত্যাগ করলেন যুক্তরাজ্যের উপপ্রধানমন্ত্রী

আবাসনের জন্য যুক্তরাজ্যে কঠিন সংগ্রামে লিপ্ত বিদেশি শিক্ষার্থীরা

নিউজ ডেস্ক

বিদেশে থাকা ব্রিটিশ নাগরিকদের সতর্কতাঃ পাসপোর্ট নবায়ন না করলে ফেরার পথে ঝুঁকি