TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইউক্রেন ইস্যুতে স্টারমারের নীতির কড়া সমালোচনায় ফারাজ

ইউক্রেনে ব্রিটিশ সেনা মোতায়েনের যেকোনো প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজ। তিনি বলেছেন, এমন একটি সামরিক অভিযানে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত জনবল ও সরঞ্জাম বর্তমানে ব্রিটেনের নেই, তাছাড়া এই ধরনের উদ্যোগের কোনো নির্দিষ্ট শেষ সময়সীমাও নেই।

 

বুধবার হাউস অব কমন্সে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর (পিএমকিউস) অধিবেশনে অনুপস্থিত থেকে ফারাজ টাইম রেডিওতে একটি সম্প্রচারে অংশ নেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ইউক্রেন নীতি নিয়ে আবারও সমালোচনা করেন এবং আগের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে জানান। ফারাজের ভাষায়, বাস্তবতা বিবেচনা না করে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত দেশকে দীর্ঘমেয়াদি ও অনিশ্চিত সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে।

তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তিনি অবস্থান পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিতও দেন। ফারাজ বলেন, যদি এটি কোরিয়ান যুদ্ধ-পরবর্তী ব্যবস্থার মতো জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বহু দেশের অংশগ্রহণে একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ হতো, যেখানে দেশগুলো পালাক্রমে সেনা মোতায়েন ও প্রত্যাহার করতে পারত, তাহলে বিষয়টি ভাবা যেত।

ইউরোপীয় মিত্রদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রিফর্ম ইউকে নেতা। তার মতে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক দৃশ্যে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি চোখে পড়লেও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এতে সক্রিয় ছিলেন না এবং জার্মানির অবস্থানও ছিল অস্পষ্ট। ফারাজের দাবি, ‘ইচ্ছুকদের জোট’ কার্যত মাত্র দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি ইউক্রেনে দীর্ঘমেয়াদি সেনা উপস্থিতির তুলনা করেন ঠান্ডা যুদ্ধের সময়কার ‘ব্রিটিশ আর্মি অব দ্য রাইন’-এর সঙ্গে। ফারাজ স্মরণ করিয়ে দেন, সে সময় প্রতিরক্ষা খাতে ব্রিটেনের জাতীয় ব্যয়ের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যয় হতো এবং সেনারা টানা প্রায় ৫০ বছর সেখানে অবস্থান করেছিল। তার মতে, বর্তমান আর্থিক ও সামরিক সক্ষমতা দিয়ে এমন দীর্ঘমেয়াদি দায়ভার বহন করা ব্রিটেনের পক্ষে বাস্তবসম্মত নয়।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

স্প্রিং স্টেটমেন্ট ২০২৫ : গ্রেট ব্রিটেনের অর্থনীতি

ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তিতে সফল বোরিস জনসন

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের এনফিল্ড কাউন্সিল ১০০টি পরিবারকে গৃহহীন করে রেখেছে