ব্রিটেনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড মিলিব্যান্ড বলেছেন, যুক্তরাজ্যের আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের প্রশ্নে একটি “জাতীয় ঐকমত্য” গড়ে তোলা প্রয়োজন। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে বর্তমান ব্রিটিশ সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয় এবং আরও “উচ্চ মাত্রার” রিসেট প্রয়োজন।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ব্রিটিশ সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে পণ্যের জন্য একটি যৌথ একক বাজার বা সিঙ্গেল মার্কেট গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল। এই তথ্য সামনে আসার পর বিবিসি রেডিও ফোরের ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ডেভিড মিলিব্যান্ড।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মিলিব্যান্ড বলেন, “আমি পুরোপুরি নিশ্চিত যে যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি ইউরোপের বাকি অংশের সঙ্গে একটি গভীর, শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল।”
তিনি বলেন, “সরকার যখন ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের কথা বলে, আমি সেটিকে ইতিবাচক মনে করি। কিন্তু এখন পর্যন্ত যে রিসেট পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে, সেটি ২০৪০ সালের মধ্যে মাত্র ৯ বিলিয়ন পাউন্ডের অর্থনৈতিক সুবিধা দিতে পারে। অথচ ব্রিটেনের অর্থনীতি ৩ ট্রিলিয়ন পাউন্ডের। তাই আরও বড় মাত্রার পরিবর্তন প্রয়োজন।”
ইউরোপীয় ইউনিয়নে পুনরায় যোগদানের পক্ষে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মিলিব্যান্ড বলেন, “আমাদের প্রথম কাজ হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে একটি জাতীয় ঐকমত্য তৈরি করা।
দীর্ঘমেয়াদে আমি এতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। তবে ২০১৬ সালের আগে ব্রিটেন যে সুবিধা ভোগ করত, সেই একই চুক্তি আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজেও এখন বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং বর্তমানে তাদের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার ইউক্রেনের সদস্যপদ।
মিলিব্যান্ড বলেন, “আজ ব্রাসেলসের প্রধান আলোচনা ব্রিটেন নয়, বরং ইউক্রেন। ইউক্রেনের জন্য অ্যাসোসিয়েট সদস্যপদ এবং বিভিন্ন স্তরের সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা চলছে।”
এদিকে শুক্রবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জার্মানির একটি প্রস্তাবকে “অন্যায্য” বলে মন্তব্য করেন। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যার্জের ওই প্রস্তাবে ইউক্রেনকে পূর্ণ সদস্যপদের আগে “অ্যাসোসিয়েট সদস্য” হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল। এতে ইউক্রেন ইইউর বিভিন্ন বৈঠক ও প্রতিষ্ঠানে অংশ নিতে পারবে, তবে ভোটাধিকার পাবে না।
ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েও মন্তব্য করেন ডেভিড মিলিব্যান্ড। লেবার পার্টির নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যক্তি নয়, বরং নীতিগত প্রশ্ন এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তার ভাষায়, “ব্রিটেন এখন বৈশ্বিক ঝড়ের কেন্দ্রে অবস্থান করছে। বিশ্বব্যবস্থা বদলে যাচ্ছে, প্রযুক্তি অর্থনীতিকে রূপান্তর করছে। আমাদের কল্যাণব্যবস্থাকেও বদলাতে হবে। বর্তমানে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রায় ১০ লাখ তরুণ শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের এখন আলোচনা করা উচিত কীভাবে সম্পদ সৃষ্টি করা যায়, কীভাবে তা ন্যায্যভাবে বণ্টন করা যায় এবং সরকার পরিচালনার ধরন নতুনভাবে গড়ে তোলা যায়। শুধু কে নেতৃত্ব দেবে তা নিয়ে ব্যস্ত থাকলে মূল বিষয়গুলো আড়ালে পড়ে যাবে।”
এদিকে ইউরোপিয়ান মুভমেন্ট ইউকের চেয়ারম্যান মাইক গ্যালসওয়ার্দি বলেছেন, ইউরোপের সঙ্গে ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে সরকারকে জনগণ ও ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে আরও খোলামেলা আলোচনা করতে হবে।
তার মতে, সিঙ্গেল মার্কেটে যোগ দেওয়া অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হতে পারে, তবে সেটি ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে জনগণের মৌলিক প্রশ্নের পূর্ণ সমাধান নয়।
তিনি বলেন, “আমরা পূর্ণাঙ্গ অংশীদার হতে চাই। এই আলোচনা অবশ্যই গণতান্ত্রিক, উন্মুক্ত ও গঠনমূলক হতে হবে। অন্যথায় জনগণ মনে করবে, পুরো প্রক্রিয়ায় তাদের কোনো অংশগ্রহণ নেই।”
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

