23.3 C
London
June 18, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

মাঝআকাশে যাত্রীর মোবাইল ফোনে আগুন, আতঙ্কে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ড্রিমলাইনারের যাত্রীরা

লন্ডন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসগামী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি বোয়িং ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে মাঝআকাশে এক যাত্রীর মোবাইল ফোনের ব্যাটারিতে আগুন লাগার ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উড়োজাহাজটি আটলান্টিক অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এক যাত্রীর ব্যবহৃত স্মার্টফোনের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিতে হঠাৎ তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যাটারি থেকে ধোঁয়া বের হতে শুরু করে এবং পরে আগুনের ফুলকি দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে কেবিনের একটি অংশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিজেদের আসন ছেড়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং কেবিনজুড়ে উৎকণ্ঠার পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

তবে কেবিন ক্রুরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। বিমান নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুযায়ী তারা বিশেষ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করে আগুন নিভিয়ে ফেলেন। একই সঙ্গে অতিরিক্ত তাপ উৎপাদন রোধে মোবাইল ফোনটিকে একটি বিশেষ তাপ-নিরোধক নিরাপত্তা ব্যাগে সংরক্ষণ করা হয়। এর ফলে আগুন অন্য কোনো স্থানে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে যায়।

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উড়োজাহাজটিকে লাস ভেগাসের হ্যারি রিড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অবতরণ করানো হয়। অবতরণের পর জরুরি সেবা কর্মীরা উড়োজাহাজটি পরীক্ষা করেন এবং সংশ্লিষ্ট যাত্রীর মোবাইল ফোনটি জব্দ করে বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হয়।

বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ ও পাওয়ার ব্যাংকে ব্যবহৃত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন হলে ‘থার্মাল রানঅ্যাওয়ে’ নামে পরিচিত একটি বিপজ্জনক রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া শুরু হতে পারে। এ অবস্থায় ব্যাটারি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ধোঁয়া, আগুন কিংবা বিস্ফোরণের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে উড়োজাহাজে বহন করা লিথিয়াম-চালিত ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি থেকে ধোঁয়া বা আগুনের শতাধিক ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এ কারণেই অনেক বিমান সংস্থা এখন যাত্রীদের চেকড লাগেজে পাওয়ার ব্যাংক বহন নিষিদ্ধ করেছে এবং কেবিন ব্যাগে রাখার নির্দেশনা দিচ্ছে।

ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ মোবাইল ফোনটির ব্র্যান্ড, মডেল এবং ব্যাটারির উৎপাদনসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন এটি উৎপাদনজনিত ত্রুটি, ব্যাটারির ক্ষয়, অতিরিক্ত চার্জিং অথবা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যার ফল কিনা।

বিমান নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, কেবিন ক্রুদের দ্রুত পদক্ষেপ না থাকলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর রূপ নিতে পারত। বিশেষ করে দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে কেবিনের ভেতরে ব্যাটারিজনিত আগুন বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই যাত্রীদের ক্ষতিগ্রস্ত, ফুলে যাওয়া বা অতিরিক্ত গরম হওয়া ব্যাটারিযুক্ত ডিভাইস ব্যবহার না করার এবং ভ্রমণের আগে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির অবস্থা পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোনের ব্র্যান্ড ও মডেল সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে এই ঘটনা আবারও আকাশপথে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির নিরাপত্তা এবং যাত্রীদের বহন করা ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

সূত্রঃ পিপুল ডট কম

এম.কে

আরো পড়ুন

হ্যারি-মেগানের ঘরে আসছে নতুন সদস্য

অনলাইন ডেস্ক

অতিরিক্ত তহবিল ছাড়া ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে: মেয়রের দাবি

যুক্তরাজ্যে স্মার্টফোনমুক্ত শৈশব চান বাবা-মায়েরা