25.6 C
London
July 31, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশযুক্তরাজ্য (UK)

‘ইন্ডিয়ান’ নামে পরিচিত, মালিক বাংলাদেশিরা—ব্রিটিশ কারি শিল্পে সিলেটিদের ঐতিহাসিক সাফল্য

যুক্তরাজ্যের কারি শিল্প এখন আর শুধু একটি জনপ্রিয় খাদ্যসংস্কৃতির অংশ নয়, বরং দেশটির অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বার্ষিক প্রায় ৩.৫ থেকে ৪.২ বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের এই শিল্পে রেস্তোরাঁর বিক্রির পাশাপাশি টেকঅ্যাওয়ে, ক্যাটারিং, হোম ডেলিভারি এবং সুপারমার্কেটে বিক্রি হওয়া প্রস্তুত কারি খাবারের বাজারও অন্তর্ভুক্ত। ফলে ব্রিটিশ খাদ্য অর্থনীতিতে কারি শিল্পের অবদান দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

শিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যজুড়ে বর্তমানে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজারের বেশি কারি হাউস ও দক্ষিণ এশীয় রেস্তোরাঁ পরিচালিত হচ্ছে। লন্ডন, বার্মিংহাম, ম্যানচেস্টার, গ্লাসগো, লেস্টার, ব্রিস্টল কিংবা নিউক্যাসলের মতো বড় শহরের পাশাপাশি ছোট শহর ও উপশহরেও কারি রেস্তোরাঁ এখন স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এই শিল্পে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ মানুষ কর্মরত। শেফ, কিচেন পোর্টার, ওয়েটার, ম্যানেজার, ডেলিভারি কর্মী, খাদ্য সরবরাহকারী, পাইকারি ব্যবসায়ী এবং ক্যাটারিং খাতের হাজারো মানুষের জীবিকা নির্ভর করছে এই শিল্পের ওপর। একই সঙ্গে এটি কৃষি, খাদ্য আমদানি, মসলা ব্যবসা এবং পরিবহন খাতেও উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক কার্যক্রম সৃষ্টি করছে।

কারি শিল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, যুক্তরাজ্যে ‘ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট’ নামে পরিচিত রেস্তোরাঁগুলোর প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশের মালিক ব্রিটিশ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত, যাদের বড় অংশই বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে যুক্তরাজ্যে অভিবাসী হিসেবে যাত্রা শুরু করা অনেক বাংলাদেশি ছোট ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তীতে সেই উদ্যোগই আজ কয়েক বিলিয়ন পাউন্ডের শিল্পে পরিণত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ‘চিকেন টিক্কা মাসালা’, ‘বালতি’, ‘ভিন্দালু’ কিংবা ‘জালফ্রেজি’র মতো জনপ্রিয় খাবারগুলো আজ ব্রিটিশ খাদ্য সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এমনকি চিকেন টিক্কা মাসালাকে একসময় যুক্তরাজ্যের ‘জাতীয় খাবার’ হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়েছিল, যা কারি শিল্পের জনপ্রিয়তার একটি প্রতীক।

তবে এই সফল শিল্প বর্তমানে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ব্রেক্সিট-পরবর্তী শ্রমিক সংকট, দক্ষ শেফের অভাব, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের উচ্চ মূল্য, খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, ব্যবসার পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি এবং যুক্তরাজ্যের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে বিদেশ থেকে দক্ষ কর্মী আনার জটিলতা রেস্তোরাঁ মালিকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এছাড়া নতুন প্রজন্মের অনেক ব্রিটিশ বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক রেস্তোরাঁ ব্যবসার পরিবর্তে অন্যান্য পেশায় ঝুঁকছেন, যা ভবিষ্যতে দক্ষ জনবল সংকট আরও বাড়াতে পারে।

তবুও অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাজ্যের কারি শিল্প শুধু রাজস্ব আয় বা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেই নয়, বরং বহুসাংস্কৃতিক ব্রিটেনের একটি সফল উদাহরণ হিসেবেও বিবেচিত হয়। কয়েক দশকের পরিশ্রমে ব্রিটিশ বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা এমন একটি শিল্প গড়ে তুলেছেন, যা আজ যুক্তরাজ্যের খাদ্য সংস্কৃতি, স্থানীয় অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

সূত্রঃ বিসিএ ইউকে

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা সেবায় রেফারাল হ্রাস বাতিলঃ তীব্র সমালোচনায় দিক বদলাল এনএইচএস

আরাফাতের লুকিয়ে থাকা নিয়ে ফরাসি দূতাবাসের ফেসবুক পোস্ট

পাপনের পদত্যাগ, বিসিবির নতুন সভাপতি ফারুক আহমেদ