TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইউরোপের ‘ফোন ছিনতাই রাজধানী’ লন্ডনঃ ছিনতাই ঠেকাতে কঠোর আইনের দাবি মেট পুলিশের

লন্ডনে ক্রমবর্ধমান মোবাইল ফোন ছিনতাই রোধে চুরি হওয়া ফোনকে সম্পূর্ণ অকার্যকর করে দেওয়ার লক্ষ্যে নতুন আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। সংস্থাটির কমিশনার স্যার মার্ক রাউলি স্বরাষ্ট্র সচিব শাবানা মাহমুদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন মোবাইল ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও নেটওয়ার্ক কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করা হয় চুরি হওয়া ফোনকে স্থায়ীভাবে ব্যবহার অনুপযোগী করে দিতে।

স্যার মার্ক রাউলির মতে, চুরি হওয়া ফোন যদি পুনরায় ব্যবহার বা বিক্রি করা সম্ভব না হয়, তাহলে এসব অপরাধ থেকে লাভের সুযোগ কমে যাবে এবং স্বাভাবিকভাবেই ছিনতাইয়ের ঘটনাও হ্রাস পাবে।

বর্তমানে ইউরোপের ‘ফোন ছিনতাইয়ের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত লন্ডনে প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ৩০০টি মোবাইল ফোন চুরি বা ছিনতাই হয়। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে সংঘটিত মোট মোবাইল ফোন চুরির প্রায় ৭৫ শতাংশই ঘটে রাজধানী লন্ডনে।

মেট পুলিশ জানিয়েছে, চুরি হওয়া ফোন পুনরায় সক্রিয় হচ্ছে কি না এবং সেগুলোর পরবর্তী অবস্থান কোথায়, তা নির্ধারণে তারা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান শুরু করেছে। বিশেষ করে অ্যাপলের সঙ্গে এই বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে তারা।

সম্প্রতি অ্যাপল তাদের আইফোনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করেছে। নতুন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে পাসওয়ার্ড দেখা, অ্যাপল কার্ডের তথ্য অ্যাক্সেস করা কিংবা ফোনের সব তথ্য মুছে ফেলার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো এখন ফেস আইডি অথবা টাচ আইডি ছাড়া সম্ভব নয়। ফলে চুরি হওয়া ফোনকে কারখানার সেটিংসে ফিরিয়ে এনে পুনরায় বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্যার মার্ক রাউলি বলেন, “চুরি হওয়া ফোন সম্পর্কিত আমাদের কাছে থাকা তথ্য এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কাছে থাকা পুনরায় সক্রিয় হওয়ার তথ্য একত্রিত করা গেলে বৈশ্বিকভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে। এতে জানা যাবে ফোনগুলো পুনরায় ব্যবহার হচ্ছে কি না, যন্ত্রাংশ হিসেবে বিক্রি হচ্ছে কি না অথবা বিশ্বের কোন কোন দেশে পাচার করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “কয়েক মাস আগেও নিরাপত্তা দুর্বলতার কারণে অধিকাংশ চুরি হওয়া ফোন পুনরায় সক্রিয় করা সম্ভব হতো। কিন্তু নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে এখন পুনরায় সক্রিয় হওয়া ফোনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে অপরাধীদের লাভের সুযোগও হ্রাস পাচ্ছে।”

মেট পুলিশ ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে এমন আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে, যার আওতায় ফোন কোম্পানিগুলোকে চুরি হওয়া ডিভাইসের তথ্য প্রকাশ এবং সেগুলো পুনরায় নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছে কি না, তা জানাতে বাধ্য করা হবে। একই সঙ্গে চুরি হওয়া ফোনকে সম্পূর্ণ অকার্যকর করার ব্যবস্থাও বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, লন্ডনে ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্রি করা হয়। সম্প্রতি পুলিশের এক অভিযানে এমন একটি চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়, যারা প্রায় ৪০ হাজার চুরি হওয়া ফোন চীনে বিক্রি করেছে। কিছু দেশে এসব ফোনের বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রগুলো এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

এদিকে ফোন ছিনতাই দমনে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ না নেওয়ার সমালোচনার মুখে মেট পুলিশ নতুন প্রযুক্তিনির্ভর কৌশল গ্রহণ করেছে। বৈদ্যুতিক বাইক, ড্রোন এবং সরাসরি মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্দেহভাজন ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। বিশেষ নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে ড্রোনের সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অভিযানে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

এই উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাবও দেখা যাচ্ছে। মেট পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত মোবাইল ফোন চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা আগের বছরের তুলনায় ১৪ হাজার কমেছে, যা প্রায় ১৮ শতাংশ হ্রাসের সমান। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে এ ধরনের অপরাধ ৬ হাজার ৭০০টি কমেছে, যা ২০ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস নির্দেশ করে।

লন্ডনের মেয়র সাদিক খানও এর আগে ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি বলেন, “চুরি হওয়া ফোন যাতে আর ব্যবহার করা না যায়, এমন ‘কিল সুইচ’ কেন থাকবে না? কেন এমন ব্যবস্থা করা যাবে না, যাতে চুরি হওয়া ফোন রিসেট করে পুনরায় ব্যবহার করা সম্ভব না হয়?”

বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনগত বাধ্যবাধকতা এবং প্রযুক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা একসঙ্গে কার্যকর করা গেলে লন্ডনে মোবাইল ফোন ছিনতাই উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন সীমান্ত বিধিঃ শুধু ব্রিটিশ পাসপোর্টে আর স্বয়ংক্রিয় প্রবেশ নয়

নিউজ ডেস্ক

বৃটিশ রাজপরিবারের কেচ্ছা ফাঁস: বিয়ের আগেই সন্তানধারণের পরীক্ষা কেটের

অক্টোবরে শেষ হতে পারে যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সের ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ চুক্তি