6.9 C
London
March 12, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ইরাকের মাটির নীচে ইরানের ‘মিসাইল সিটি’

ইরাকের মাটির নিচে গড়ে উঠছে ইরানের বিশাল এক মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইরাকের ভূগর্ভস্থ অংশ এখন প্রায় ‘সুইস চিজ’-এর মতো ছিদ্রযুক্ত। সেখানে ডজনখানেক গোপন ক্ষেপণাস্ত্র শহর গড়ে তোলা হয়েছে।

 

ইরাকের ভূখণ্ড অনেকটা সমতল হওয়া সত্ত্বেও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাটির গভীরে এসব টানেল খনন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল কাসেম সুলাইমানির সময়ে। বর্তমানে ইসমাইল কায়ানির নেতৃত্বে এর কাজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগুচ্ছে।

এসব টানেল মাটির প্রায় ৫০০ মিটার (প্রায় ১,৬০০ ফুট) গভীরে পাহাড়ের নিচে অবস্থিত। এই গভীরতা এতটাই বেশি যে প্রচলিত ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা এমনকি পারমাণবিক হামলাও সহ্য করতে সক্ষম এগুলো।

ইরানের প্রকাশিত ভিডিও অনুযায়ী, টানেলগুলো এতটাই প্রশস্ত যে বড় বড় মিসাইলবাহী ট্রাক বা লঞ্চার পাশাপাশি চলাচল করতে পারে। একে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড হাইওয়ে’ বলেও অভিহিত করা হচ্ছে। এখানে হাজার হাজার ব্যালিস্টিক মিসাইল মজুত রাখা হয়েছে। টানেলের ভেতর থেকেই সরাসরি মিসাইল লঞ্চ করার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা (রেল-ভিত্তিক লঞ্চ সিস্টেম) রয়েছে।

ইরানের ৩১টি প্রদেশে এ ধরনের টানেল নেটওয়ার্ক রয়েছে। কেন্দ্রীয় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও এসব নেটওয়ার্ক স্বাধীনভাবে কাজ করতে সক্ষম।

বর্তমানে সেখানে ‘কাহ’ নামক স্বল্পপাল্লার (৮৫ কিলোমিটার) নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র দেখা গেলেও ভবিষ্যতে এখানে দীর্ঘপাল্লার ভারী ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। সিরিয়া সীমান্তের কাছাকাছি এসব টানেলের অবস্থান হওয়ায় এখান থেকে খুব সহজেই শত্রুঘাঁটিতে অতর্কিত হামলা চালানো সম্ভব।

শুধু সরঞ্জাম সরবরাহের পথ নয়, বরং এখানে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা বা অ্যাসেম্বলি লাইন স্থাপন করতে চায় ইরান। এর ফলে শত্রুপক্ষের পক্ষে এই সাপ্লাই চেইন ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব।

গাজার ‘গাজা মেট্রো’র সফলতাকে এখানে বড় পরিসরে কাজে লাগানো হচ্ছে। গাজার টানেল নেটওয়ার্কের উন্নত সংস্করণ বলা হচ্ছে একে। বিশাল আয়তনের দেশ হওয়ায় ইরাকের এই নেটওয়ার্ক পরিষ্কার করা বা ধ্বংস করা যেকোনো আধুনিক সেনাবাহিনীর জন্য হবে দুঃসাধ্য ও ব্যয়বহুল।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইরান তার প্রতিরক্ষা সীমানাকে কার্যত ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করেছে। এর ফলে ইরাক এখন ইয়েমেন বা লেবাননের মতো ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ (অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স) অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

ইরানের মূল লক্ষ্য ইরাককে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী ফ্রন্ট হিসেবে গড়ে তোলা। যুদ্ধের সময় ইসরায়েল বা আমেরিকা বিভিন্ন দিক থেকে আসা আক্রমণে যাতে দিশেহারা হয়ে পড়ে, সেটিই উদ্দেশ্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান ও ইরাকের ভৌগোলিক এবং ধর্মীয় বন্ধনকে কাজে লাগিয়ে এই দুই দেশের সামরিক সীমানাকে এক করে দেওয়া হচ্ছে। যা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও পশ্চিমা উপস্থিতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সূত্রঃ ডাব্লিউ এস যে

এম.কে

আরো পড়ুন

ভারতের চিপ প্রকল্পে থাকছে না ফক্সকন

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত বাংলাদেশ

বিরল ‘মস্তিষ্ক-খেকো’ অ্যামিবা সংক্রমণে কেরালায় ১৮ জনের মৃত্যু