17.7 C
London
March 5, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইরানে মার্কিন হামলা নিয়ে যুক্তরাজ্যেরে মন্ত্রিসভায় বিরোধ চরমে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলা নিয়ে যুক্তরাজ্যের সরকারে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার একাধিক শীর্ষ সদস্য শুরুতে এ হামলার বিরোধিতা করলেও শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মার্কিন বাহিনীকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেন।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, হামলার আগে শুক্রবার অনুষ্ঠিত জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে জ্বালানি মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে আগাম সামরিক হামলার পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেন। তার সঙ্গে একমত হন অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভস এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার।

তাদের যুক্তি ছিল, এমন আগাম হামলা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে বৈধ নয় এবং এতে ব্রিটেনকে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

প্রথমে প্রধানমন্ত্রী স্টারমারও তাদের অবস্থান সমর্থন করেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর চাপ সত্ত্বেও ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে বোমা হামলার অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানান। বিশেষ করে গ্লস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি এবং ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি ব্যবহারের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়।

তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্টারমার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে সীমিত ও প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেন। এর ফলে মার্কিন বি–২ স্টেলথ বোমারু বিমান আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিতে মোতায়েন হওয়ার কথা রয়েছে।

ওয়াশিংটন জানিয়েছে, এসব অভিযান মূলত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো হবে, যেগুলো মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা মিত্রদের জন্য হুমকি তৈরি করছে। একই সময়ে মার্কিন বাহিনী শ্রীলঙ্কার কাছে সমুদ্রপথে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজও ডুবিয়ে দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। বুধবার তুরস্কে অবস্থিত মার্কিন সেনাদের একটি ঘাঁটির দিকে ছোড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে প্রতিহত করা হয়। এতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে সংঘাতটি ন্যাটো জোটের আরও সদস্যকে জড়িয়ে ফেলতে পারে।

ব্রিটিশ সরকারের ভেতরে এ বিষয়ে মতবিরোধও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি মনে করেন, ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলা ঠেকাতে মিত্রদের রক্ষায় ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া উচিত।

স্টারমারের প্রথম সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি প্রকাশ্যে বলেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানে তিনি “খুবই হতাশ” এবং মন্তব্য করেন যে স্টারমার “উইনস্টন চার্চিল নন”।

এদিকে ব্রিটেনের মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যুক্তরাজ্যে সাইপ্রাসের হাইকমিশনার কিরিয়াকোস কুরোস বলেছেন, তাদের দ্বীপে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি থাকায় তারা অন্তত শক্ত প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতা আশা করেছিলেন।

ইরান সংকটের মধ্যেই ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপ বাড়ছে। সরকার পরিচালনা নিয়ে সমালোচনার পাশাপাশি স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের জল্পনাও চলছে।

তবে জ্বালানি মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এ ধরনের গুঞ্জনকে “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
পরিস্থিতির মধ্যে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। একই সঙ্গে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ব্রিটিশ ঘাঁটি রক্ষায় এইচএমএস ড্রাগন যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে, যদিও সেটি মোতায়েন হতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক প্রস্তুতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করছে, যার প্রভাব ইউরোপীয় রাজনীতিতেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

রেল বিলম্বিত হওয়ায় রেকর্ড ক্ষতিপূরণ পেল যুক্তরাজ্যের রেলযাত্রীরা

যুক্তরাজ্যে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব

আমরা আমাজন নইঃ ইউক্রেনকে বলেছে যুক্তরাজ্য