TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

‘ইরান বহু আগেই ব্রিটেনে অনুপ্রবেশ করেছে’—জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র সতর্কবার্তা

যুক্তরাজ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তার এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এ প্রকাশিত এক মতামতধর্মী বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দীর্ঘদিন ধরে মসজিদ, দাতব্য সংস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আড়ালে যুক্তরাজ্যে একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে আইআরজিসির প্রকাশ্য হুমকি সেই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আইআরজিসি সম্প্রতি গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিসহ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের প্রতিও হুমকিসূচক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।

এতে আরও দাবি করা হয়, ইরানের এই বৈরী অবস্থান সাম্প্রতিক কোনো সিদ্ধান্তের ফল নয়; বরং বহু বছর ধরেই দেশটি যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের গোপন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। গত চার বছরে আইআরজিসি যুক্তরাজ্যে ২০টিরও বেশি সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করেছে বলেও বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে দ্য টেলিগ্রাফ-এর সাম্প্রতিক অনুসন্ধানেরও উল্লেখ করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়েছে, আইআরজিসির ইউনিট–৭০০ ছোট নৌকায় অবৈধ অভিবাসনের রুট ব্যবহার করে তাদের গোপন এজেন্টদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করিয়েছে এবং লন্ডনের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।

বিশ্লেষণে অভিযোগ করা হয়, আইআরজিসি সরাসরি নিজেদের নামে কার্যক্রম পরিচালনা না করে মসজিদ, চ্যারিটি ও কলেজের মতো বৈধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একটি তথাকথিত ‘সফট পাওয়ার’ অবকাঠামো গড়ে তুলেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উগ্রবাদী মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়া, সমর্থক তৈরি এবং প্রয়োজন হলে সহিংস কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করার পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, যুক্তরাজ্যের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংগঠনের সঙ্গে আইআরজিসির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অনলাইনে যোগাযোগ করেছেন এবং উগ্রপন্থী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া লন্ডনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এবং যুক্তরাজ্যে সক্রিয় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধেও আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্লেষণে সতর্ক করা হয়েছে, ভবিষ্যতে আদর্শগতভাবে প্রভাবিত একক হামলাকারী (লোন-অ্যাক্টর) ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে হামলার চেষ্টা হতে পারে, যা সরাসরি ইরানের সম্পৃক্ততা প্রমাণ করাকে কঠিন করে তুলবে।

এদিকে, ইরানের সাম্প্রতিক হুমকির পর প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সরকারের প্রতিক্রিয়াকে যথেষ্ট কঠোর নয় বলেও সমালোচনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, শুধু প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান নেওয়া নয়, বরং ইরানকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া প্রয়োজন যে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে যেকোনো হামলার কঠোর পরিণতি হবে।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার নতুন ন্যাশনাল সিকিউরিটি (স্টেট থ্রেটস) অ্যাক্ট-এর আওতায় আইআরজিসিকে ‘রাষ্ট্রীয় হুমকি’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। তবে এ পদক্ষেপকে যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ থাকা মসজিদ, দাতব্য সংস্থা ও বিভিন্ন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের বহিষ্কারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সবশেষে বিশ্লেষণে সতর্ক করা হয়, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে রাশিয়া, চীন ও ইরানের মতো প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রগুলো যুক্তরাজ্যের প্রতিক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাই রাজনৈতিক প্রচারণার পরিবর্তে জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

রেকর্ড বন্যার পর যুক্তরাজ্যে তীব্র ঠান্ডাঃ তুষারপাত–বরফে নতুন ঝুঁকি

নিউজ ডেস্ক

অনিবন্ধিত অভিবাসী সন্দেহে হোম অফিস কর্মী গ্রেফতার

যুক্তরাজ্যে ছেলের হত্যার অস্ত্র লুকাতে সহায়তাঃ তিন বছরের কারাদণ্ড পেলেন খুনির মা

নিউজ ডেস্ক