TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধের দায় ট্রাম্পের ওপর চাপালেন ভ্যান্সঃ ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার ইঙ্গিত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, এই যুদ্ধই নির্বাচনে দলের পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিররের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনে দেশজুড়ে বিভিন্ন আসনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের হারিয়ে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। এর ফলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই পরাজয়ের পর ভ্যান্স নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়েও ভাবছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা যে কারণে হেরেছি, সেটি হলো যুদ্ধ। প্রেসিডেন্ট নিজেই গত রাতে এ কথা বলেছেন।’

তিনি আরও বলেন, যারা ইরান যুদ্ধকে সমর্থন করেছেন, নির্বাচনে পরাজয়ের দায়ও তাদের নেওয়া উচিত। ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিনিময়ে এই যুদ্ধ কতটা যৌক্তিক ছিল, তা সমর্থকদের ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনের ফলাফলে যুক্তরাষ্ট্রে বিভক্ত সরকারব্যবস্থা তৈরি হতে যাচ্ছে। দুই বছর ধরে রিপাবলিকানদের একক নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেসে এবার ডেমোক্র্যাটরা শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কংগ্রেসে নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

এদিকে ইরান যুদ্ধের ব্যর্থতার দায় কার ওপর বর্তাবে, তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও আলোচনা শুরু হয়েছে। সিবিএস নিউজের সূত্রের বরাতে ডেইলি মিরর জানিয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে বরখাস্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন ট্রাম্প।

এ ছাড়া মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের ওপরও যুদ্ধ পরিচালনার দায় চাপতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগও রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় গিয়ে প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে জ্বালানি, মুদি পণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি মেডিকেইড এবং অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত উল্টে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।

ডেমোক্র্যাট নেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত জোরদার করারও ইঙ্গিত দিয়েছেন। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস বলেছেন, প্রশাসনের বিরুদ্ধে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট কিংবা তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিশংসনের বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে।

সূত্রঃ ডেইলি মিরর

এমকে

আরো পড়ুন

বিনামূল্যে ক্যান্সারের ভ্যাকসিন দেবে রাশিয়া

ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভ করায় হার্ভার্ডের ১৩ শিক্ষার্থীর ডিগ্রি স্থগিত

৩৫ ডিগ্রি তাপে ওয়ার্ডে রোগীদের দুর্ভোগ—চরম গরমে নড়বড়ে ব্রিটেনের স্বাস্থ্যব্যবস্থা