TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করতে বার্মিংহাম কাউন্সিলে প্রস্তাব পাস

যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলে ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ, নৃশংসতা ও যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে—এমন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। এর আওতায় কাউন্সিলের বিনিয়োগ, সরকারি ক্রয় ও চুক্তি এবং পেনশন তহবিলের আর্থিক অবস্থান পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে।

গত ৩ নভেম্বর ২০২৬ অনুষ্ঠিত কাউন্সিলের পূর্ণাঙ্গ সভায় প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন ৫৪ জন কাউন্সিলর। বিপক্ষে ভোট দেন ১৯ জন। প্রস্তাবটি পাসের মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কাউন্সিলের আর্থিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিল এবং ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পেনশন ফান্ডের (West Midlands Pension Fund) বিনিয়োগ ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত চুক্তিগুলো পর্যালোচনার জন্য ছয় মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পর্যালোচনায় মানবাধিকার লঙ্ঘন, নৃশংসতা কিংবা যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে—এমন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখা আইনগত ও বাস্তবিকভাবে কতটা গ্রহণযোগ্য, তা খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবটির অন্যতম লক্ষ্য হলো, এ ধরনের কোম্পানির সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তি বাতিল, বিনিয়োগ প্রত্যাহার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের সম্ভাবনা যাচাই করা। তবে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের আগে আইনি বাধ্যবাধকতা ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবস্থান বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

‘বেটার বার্মিংহাম গ্রুপ’-এর সদস্য ও কাউন্সিলের স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণবিষয়ক ক্যাবিনেট সদস্য স্বতন্ত্র কাউন্সিলর নোশিন খালিদ এবং কাউন্সিলর জামিল খান প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। তাদের উদ্যোগে আনা প্রস্তাবটি নিয়ে কাউন্সিলের পূর্ণাঙ্গ সভায় আলোচনা ও ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রস্তাবটির আওতা শুধু ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলে জানিয়েছে কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ। ইউক্রেন, কঙ্গো, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সুদানের মতো যেসব দেশে নৃশংসতা বা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে, সেসব দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্ত কোম্পানির বিষয়ে একটি বিস্তৃত পর্যালোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে প্রস্তাবটি পাস হওয়ার অর্থ এই নয় যে, কাউন্সিলের ওপর অবিলম্বে সব সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিল কিংবা বিনিয়োগ প্রত্যাহারের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। কাউন্সিলের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এটি সরাসরি কার্যকর কোনো বাধ্যতামূলক নীতি নয়; বরং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আর্থিক বিনিয়োগ, সরকারি ক্রয় ও চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের জন্য দেওয়া একটি অনুরোধ।

অন্যদিকে, প্রস্তাবটি নিয়ে যুক্তরাজ্যের ইসরায়েলপন্থী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সমালোচনা এসেছে। ইউকে লয়ার্স ফর ইসরায়েল (UKLFI) এবং ক্যাম্পেইন অ্যাগেইনস্ট অ্যান্টিসেমিটিজম (CAA) এর বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকারি ক্রয় বা পেনশন তহবিলের বিনিয়োগ প্রত্যাহারের উদ্যোগ ব্রিটিশ আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। একই সঙ্গে এ ধরনের সিদ্ধান্ত স্থানীয় ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তারা উদ্বেগ জানিয়েছে।

ছয় মাসের পর্যালোচনা প্রক্রিয়ায় কী ধরনের সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কাউন্সিলের অর্থ কোথায় বিনিয়োগ করা হচ্ছে, কোন কোম্পানির সঙ্গে সরকারি চুক্তি রয়েছে এবং মানবাধিকারসংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে আর্থিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখার আইনগত সুযোগ কতটুকু—এসব বিষয় পর্যালোচনার ফলাফলের ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে।

সূত্রঃ জিউস নিউজ

এমকে

আরো পড়ুন

ব্রিটেনে ফিরেই বড় ধাক্কা হ্যারি-মেগানেরঃ রাজকীয় দায়িত্ব পালনের সুযোগ নেই

চার দেশের শিক্ষার্থী ভিসা নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জঃ ব্রিটিশ হাইকোর্টে লড়ছেন অক্সফোর্ডে সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীরাও

যুক্তরাজ্যে “বালতি জালিয়াতি” রুখতে সরকারি স্বীকৃতি চায় বার্মিংহামের রেস্তোরাঁগুলো